সন্ধান২৪.কমঃ নিউইয়র্কে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে প্রবাসের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা, ইনক। মূলতঃ এই সংগঠনটির ভবন ক্রয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে দুটি গ্রুপ। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বর্তমান সাধারন সম্পাদক মইনুল ইসলাম। অপর দিকে সংগঠনের সভাপতি বদরুল খানের নেত্বত্বে রয়েছে কমিটির অধিকাংশ নির্বাচিত সদস্য।
গত ৫ জুন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে বদরুল খানের রানিংমেট হিসেবে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম। নির্বাচনে বদরুল-ময়নুল পরিষদ পুরো প্যানেলে জয়ী হলেও,ভবন ক্রয়কে কেন্দ্র করে ‘বদরুল-ময়নুল’ জুটির মধ্যে সৃষ্টি হয় বিরাট ফাটল। সংগঠনের অভ্যন্তরে দেখা দেয় নানা সংকট।

নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে সংগঠনটি ধুকে ধুকে চললেও, গত ৮ জানুয়ারি রোববার নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা, ইনক এর নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে প্রবাসী সিলেটবাসীসহ কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা এ ভবন ক্রয়ের জন্য সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান।

জালালাবাদ ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শওকত আলী, রানা ফেরদৌস চৌধুরী, মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, ফকরুল ইসলাম দেলোয়ার, জুনেদ খান, খলিল আহমেদ, আসাদ উদ্দীন, শেফাজ, শেখ জামাল, হাজি এনাম, এম এন মজুমদার, এ এফ এম জামান, এম এ করিম, আতাউল খান আসাদ, আব্দুল জব্বার, মাসুক মিয়া, পংকি মিয়া, মাওলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকী, রুমানা আহমেদ, মনির আহমেদ, জালাল আহমেদ, শাহ মিজান, ফারুক শামীম, মোদাব্বির হোসেন, আব্দুল রাজা, হাজি আব্দুল জব্বার, শামসুল ইসলাম ও আযম চৌধুরী। ভবন উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন যতদিন থাকবে, মইনুলের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম বলেন, এই ভবনের মর্টগেজ মাসে সাড়ে ৫ হাজার ডলার। ২টি ফ্লোর থেকে ভাড়া পাচ্ছি/পাবো মাসে সাড়ে ৬ হাজার ডলার। এ দিক থেকে আমরা লাভে আছি। ভবনের ওয়াকিং বেজমেন্ট সংগঠনের অফিস হিসেবে ব্যবহার হবে। জালালাবাদ ভবন চলবে নিজস্ব আয় থেকেই। বেজমেন্টের এই অত্যাধুনিক হল রুমটি দেখছেন তা সিলেটের ১১টি উপজেলাবাসীর জন্য উন্মুক্ত। তারা বিনা পয়সায় এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
সংগঠনের বেশ কয়েকজন সাধারণ সদস্যের দাবী, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক কমিটির সভাপতি হেলাল চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান শেফাজ ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামের প্রচেষ্টায় কুইন্সের এস্টোরিয়ায় প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ডলারে ভবনটি ক্রয় করা হয়। এ ভবন ক্রয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান মইনুল ইসলামের। এটি তার নির্বাচনী প্রাতশ্রুতিও ছিল। অনেক প্রবাসী সিলেটবাসীরা মনে করেন তার চেষ্টাতেই এ ভবন কেনা সম্ভব হয়েছে।
অপর দিকে ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি বদরুল খানসহ কমিটির অধিকাংশ নির্বাচিত সদস্য। ভবনকে ব্যক্তি মালিকানাধীন অভিহিত করে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নামে ভবন ক্রয়ের অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সভাপতি বদরুল খানসহ কমিটির ১৩ সদস্য। তা ছাড়াও ভবন উদ্ভোধনের পরের দিনই সভাপতি বদরুল খানের নেতৃত্বে সাধারণ সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

গত ৯ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় ওজনপার্কের মমোস পার্টি হলে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কার্যকরী কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলামকে নিজের কর্পোরেশন ‘জালালাবাদ ইউ এস এ ইনক’র নামে বাড়ি ক্রয়ে বিগত কমিটির কোষাধ্যক্ষ থাকাবস্থায় সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অগঠনতান্ত্রিক পন্থায় সংগঠনের ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলনকৃত সমুদয় অর্থ (উক্ত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক) অনতিবিলম্বে সংগঠনের ব্যাংক একাউন্টে জমা দেওয়ার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবং ভবনকে কার্যকরী কমিটি বা উপদেষ্টা পরিষদের অনুমতি ছাড়া জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কার্যালয় বা ভবন হিসাবে অপপ্রচার চালানো হয়। “জালালাবাদ ইউএসএ ইনক’ কর্পোরেশনের নামে অসাংগঠনিক পন্থায় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলিত সমুদয় অর্থ কেন সংগঠনের ব্যাংক একাউন্টে জমা দেওয়া হয়নি এবং উল্লেখিত ভবনকে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র কার্যালয় হিসেবে অপপ্রচারের জন্য কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না” এর জন্য সাধারণ সম্পাদক ময়নুলের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সংগঠনের সভাপতি বদরুল খানের সভাপতিত্বে এবং সহ সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি এম ডি লোকমান হোসেন, সহ সভাপতি সফিউদ্দিন তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলিম, সাহিত্য সম্পাদক হোসেন আহমদ, ক্রীড়া সম্পাদক মান্না মুনতাসির, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জাহিদ হাসান, আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক ফয়সাল আলম, কার্যকরী সদস্য শামীম আহমদ,মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন মানিক। এছাড়াও সভায় সংগঠনকে এগিয়ে নিতে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
কিন্তু মইনুল ইসলামের এই অবদান বা প্রষ্টোকে আমলে নিচ্ছেন না তারই কমিটির অধিকাংশ সদস্য। যার জন্য ভবনকে ব্যক্তি মালিকানাধীন অভিহিত করে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক’র ভবনের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে গত রোববার বিবৃতি দিয়েছেন সভাপতি বদরুল খানসহ কমিটির অধিকাংশ সদস্য। তারা বলছেন, মইনুল তার কয়েকজন অনুসারিদের নিয়ে করপোরেশন করে নিজেদের নামে বাড়ি কিনেছেন। এটি জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সম্পত্তি নয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নিজস্ব কোন ভবন নেই। বর্তমান কার্যকরী কমিটি, প্রাক্তন কার্যকরী কমিটি কিংবা উপদেষ্টা পরিষদ কারো দ্বারা কোন ধরনের প্রক্রিয়ায়ও গ্রহণ করা হয়নি। কিছু ব্যক্তি তাদের নিজস্ব নামে ক্রয়কৃত ভবনকে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ভবন হিসেবে পরিচিতি দিতে লিপ্ত হয়েছে। আমরা জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক এর কার্যকরী কমিটি এ ধরনের হীন উদ্দেশ্যের প্রতিবাদ জানানো হয়।


