জেএফকে বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগ বিএনপির শো-ডাউন

সন্ধান২৪.কমঃ জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনের আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি জেএফকে বিমানবন্দরে পৃথক পৃথক সমাবেশ করেছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সমাগম ঘটেছিল জেএফকে এয়ারপোর্টে।
জেএফকে বিমানবন্দরে প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ করেছে নিউইয়র্ক স্টেট ও মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপি-জাসাসের নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত ও অভ্যর্থনা জানাতে শান্তি সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে লন্ডন থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত সাড়ে ১০ টায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় হাসিনা সরকারের পদত্যাগ ও বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি, মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, যুক্তরাষ্ট্র জাসাস, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করে।

আওয়ামী লীগের সমাবেশ

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের স্বাগত সমাবেশ স্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে বিএনপিকে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়া হয়। নিরাপত্তারক্ষীরাও ছিলেন তৎপর। ফলে উস্কানিমূলক শ্লোগান উঠলেও আক্রমণাত্মক কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। এই বিক্ষোভে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা গিয়াস আহমেদ, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল,নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির আহ্বায়ক মাওলানা অলিউল্লাহ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আনিসুর রহমান, সদস্য সচিব সাঈদুর রহমান সাঈদ, নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক আহবাব চৌধুরী খোকন ও নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সায়েম রহমান এবং সদস্য সচিব জাহাঙ্গির সোহরাওয়ার্দি, যুগ্ম-আহ্বায়ক শেখ হায়দার আলী, যুক্তরাষ্ট্র যুব দলের সবাপতি জাকির চৌধুরী, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম জনি,স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাকসুদ এইচ চৌধুরী প্রমুখ।
বিক্ষোভের পর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সিনিয়র নেতারা জ্যাকসন হাইটসে এক সভায় মিলিত হয়ে ‘যেখানে হাসিনা-সেখানেই প্রতিরোধ’কর্মসূচিকে সাফল্য করতে সকলের সহায়তা কামনা করেন।
এদিকে বিএনপির সমাবেশ স্থল থেকে কিছুটা দূরে ‘শেখ হাসিনার আগমন শুভেচ্ছা-স্বাগতম’ শ্লোগানে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন মুখরিত করে তোলে জেএফকে এয়ারপোর্ট । শান্তিপূর্ণভাবে ঘণ্টা তিনেকের এই শ্লোগান-র‌্যালি থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফরের সাফল্য কামনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ,মহিলা আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগ,পেনসিলভেনিয়া আওয়ামী লীগ, নিউজার্সি আওয়ামী লীগ, কানেকটিকাট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই সমবেশে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির সমাবেশ


নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম দুলাল মিয়া, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহানারা আলী, সেক্রেটারি ফরিদা ইয়াসমীন, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার ও সুবল দেবনাথ, শ্রমিক লীগের কাজী আজিজুল হক খোকন প্রমুখ। সমাবেশের সমন্বয়ে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।
বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমাবেশ করলেও তারা শেখ হাসিনাকে দেখতে পাননি। প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা কর্মীরা সবার অগোচরে ভিআইপি গেট দিয়ে হোটেলে নিয়ে যান।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। ১ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসি থেকে রওনা হয়ে যুক্তরাজ্যে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করে ২ অক্টোবর মধ্যরাতে তার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

Exit mobile version