সন্ধান২৪.কমঃ জেল হত্যা দিবসে জাতীয় চার নেতা স্মরণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠন এক সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।
গত ২ নভেম্বর সন্ধায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এই সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ পরিবার,কমিটি ফর এ ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ, আমেরিকা বাংলাদেশ কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট,কক্রেস অব বাংলাদেশী আমেরিকানস,মহিলা আঃলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, হাসিনা মঞ্চ, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধি অংশ নেন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের (বিপ্লবী কমিটি) একাংশের সভাপতি ড.প্রদীপ রঞ্জন করের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আলোচনা করেন, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক,শাহ বখতিয়ার,হুসনে আরা বেগম,বিপ্লব আহমেদ, টি মোল্লাহ, দেলোওয়ার হোসেন, আবুল কাশেম ভুঁইয়া প্রমূখ।
ড.প্রদীপ রঞ্জন কর তাঁর বক্তৃতায় বলেন, জাতীয় চার নেতা হত্যাকা- ছিল জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা। এ ধরনের হত্যাকা- পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। তিনি বলেন, ১৫ অগাস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্ট একই সূত্রে গাঁথা। ইতিহাসের মানবতাবিরোধী খলনায়করাই এ ধরনের ঘৃণ্য ও জঘন্য হত্যকা-চালিয়েছে।

অন্যান্য বক্তরা বলেন,ষড়যন্ত্রকারীরা এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে বাংলার মাটি থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব শুন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতকারী সেনাসমর্থিত চক্রান্তকারীরাই কারাগারে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করেছিল।
উল্লেখ্য, ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধের চার শীর্ষ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে।
স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম সরকার গঠনে এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় এই চার নেতার অবদান ছিল অনন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর, তারই দলের আরেক নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদের শাসনামলে সংঘটিত হয় এই হত্যাকাণ্ড—যা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।


