সন্ধান২৪.কম : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কাউকে গ্রেপ্তারের এখতিয়ার র্যাবের আছে কিনা,কারো অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা ছাড়া র্যাব কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে কিনা,তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আটকের পর থেকে সুলতানা জেসমিনকে সম্মানজনক জায়গায় (থানা অথবা কার্যালয়ে) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কিনা এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ে র্যাবের আচরণ আইনানুগ হয়েছে কিনা,তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
নওগাঁয় র্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিন (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিটের শুনানি নিয়ে আজ এসব আদেশ দেন যৌথ বেঞ্চ।
গত ২৮ মার্চ শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত তথ্য আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে এ সংক্রান্ত আইন, নথি ও সুলতানা জেসমিনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ওই দিন পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনোজ কুমার ভৌমিক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ।
শুনানিতে রিটকারি আইনজীবী র্যাব হেফাজতে নওগাঁর ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের নির্দেশনা চান। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় মামলা না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে পদক্ষেপ চান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়ায় ওই নারীকে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হলে হাসপাতালে সে মারা যায়। এক্ষেত্রে আগামী বুধবার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানান।’
গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট মনোজ কুমার ভৌমিক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্ট’তলব করেন হাইকোর্ট।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নওগাঁয় র্যাবের হেফাজতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) জয়পুরহাট ক্যাম্পের সদস্যরা সুলতানা জেসমিন নামে ওই নারীকে হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
গত শুক্রবার (২৪ মার্চ) সকালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়। গত বুধবার (২২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের নওযোয়ান মাঠের সামনে থেকে ওই নারীকে আটক করে র্যাব।
সুলতানা জেসমিন সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন। শহরের জনকল্যাণ মহল্লায় ভাড়া থাকতেন তিনি।


