সন্ধান২৪.কম :গত বৃহস্পতি বার নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি কোরান নিয়ে শপথ নেন। এরপরই মার্কিন রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তুমুল প্রতিক্রিয়া, যেখানে মামদানির ধর্মীয় পরিচয় এবং শপথগ্রহণের পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে আক্রমণ শানানো হয়।
শুধু আমেরিকা থেকেই না, বিশ্বের অন্যান্য জায়গা থেকেও মামদানির শপথ গ্রহন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্কের কথা মাথায় রেখেই মামদানির টিম শপথগ্রহণের জন্য একটি বিশেষ কোরান বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রতীক ব্যবহার করা, যা নিউ ইয়র্ক শহরের বহুত্ববাদী ও সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণের ইতিহাসকে তুলে ধরবে।
এমন এক সময়ে এই বিতর্কের ঘটনা ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, ধর্ম এবং জাতিগত পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ডানপন্থী রাজনীতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা এই ঘটনাকে “নিউ ইয়র্কের পতন” বলে আখ্যা দেন এবং ইসলামকে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
“শরিয়া আইনের আমেরিকায় কোনও জায়গা নেই”- এই মন্তব্য করে গত ২১ ডিসেম্বর তীব্র বিতর্কের সূচনা করেন আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। মন্তব্যটি এমন সময় করা হয় যখন জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র। আমেরিকার বৃহত্তম শহর বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে এই প্রথম কেউ কোরানে হাত রেখে শপথ নিলেন।
সিনেটর টিউবারভিল এক্স-এ পোস্ট করে দাবি করেন, মামদানির “আনুগত্য আমেরিকার প্রতি নয়, ইসলামের প্রতি”। ডানপন্থী সাংবাদিক-ইনফ্লুয়েন্সার অ্যামি মেক লেখেন, “আল্লাহু আকবর, নিউ ইয়র্ক সিটি- আত্মসমর্পণ সম্পূর্ণ।” এমনকি ইউরোপ থেকেও প্রতিক্রিয়া আসে। নেদারল্যান্ডসের কট্টর ডানপন্থী নেতা গিয়ার্ট উইল্ডার্স পোস্ট করেন, “অবৈধ শপথ। যুক্তরাষ্ট্র কোনও ইসলামি রাষ্ট্র নয়।”
আক্রমণ শুধু রিপাবলিকান শিবিরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউ ইয়র্কের প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোসহ একাধিক নেতা মামদানির ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই প্রেক্ষাপটে মামদানি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজের মুসলিম পরিচয় অস্বীকার করবেন না এবং এই আক্রমণগুলো নিউ ইয়র্কের রাজনীতির গভীরে থাকা ইসলামোফোবিয়ারই প্রতিফলন।
এই বিতর্কের কথা মাথায় রেখেই মামদানির টিম শপথগ্রহণের জন্য একটি বিশেষ কোরান বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রতীক ব্যবহার করা, যা নিউ ইয়র্ক শহরের বহুত্ববাদী ও সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণের ইতিহাসকে তুলে ধরবে। সেই অনুসন্ধানের ফলেই সামনে আসে বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাসবিদ ও লেখক আর্তুরো শোমবার্গের সংগ্রহে থাকা একটি কোরান। সুত্র: আজকাল ওয়েবডেস্ক


