জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকার ফুটপাত বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের দখলে,চরমে পথচারীদের ভোগান্তি

সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদনঃ নিউইয়র্কে মিনি বাংলাদেশ হিসেবে খ্যাত জ্যাকসন হাইটস I জ্যামাইকাও এখন বাঙালিদের গুরত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সেই দুটি বানিজ্য এলাকার ফুটপাত ব্যবসায়ীদের অবৈধ দখলে চলে গেছে । স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়  অনেকে অবৈধ ভাবে ব্যবসা করছে হকাররা। ফলে প্রতিদিন নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পথচারীরা। এগুলো দেখার কেউ নাই।

জ্যাকসন হাইটসে বাঙালি ব্যবসায়ীদের জেবিবিএ ( জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী ব্যবসায়ী এসোসিয়েশন ) নামে তিনটি সংগঠন থাকলে এ ব্যাপারে তারা নিরব ভূমিকা পালন করছে।  একজন পথচারী অভিযোগ করে বলেন, জেবিবিএ‘র অনেক নেতাও ‍ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জ্যামাইকারও ফুটপাতগুলোও একই অবস্থা।

এই দুই এলাকার  ফুটপাত শুধ  দখলই নয়, যত্রতত্র পার্কিং দিন দিন বেড়েই চলছে I দেশিয় রাজনৈতিক বাক-বিতন্ডা আর গাড়ি পার্কিং ঘিরে হরহামেশাই মারামারি-হাতাহাতিতে লিপ্ত থাকছে বাংলাদেশি-আমেরিকানরা!

মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ পুলিশ অবৈধ ভাবে ফুটপাত দখলের কারণে জড়িতদের উচ্ছেদ ও জেল-জরিমানা করলেও কোন লাভ হয় না। ফুটপাত ও সড়ক দখলকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সচরাচর অভিযান হয় না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। আবার কখনো কখনো অভিযান হলেও কিছুক্ষণ পরেই প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আবারও অবৈধ দখলে চলে যায় ফুটপাত।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকার বাঙালিদের ব্যবসায়ী এলাকা ঘুরে দেখা যায়—তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনের ফুটপাত অবৈধ দখলে নিয়েছে। শুধু দখল নয়, রীতিমতো অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে ব্যবসা চলছে। কোনো ধরনে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এসব দোকানপাট ও যানবাহন ফুটপাত দখল করে রাখছে। আর এসব ফুটপাত দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সের মানুষ চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। জনস্বার্থে নানা কথাবার্তা বলা হলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই। এলাকায় শুধু অবৈধ দখলই নয়, মোটরসাইকেল  ও প্রাইভেট কার পার্কিংয়ের কারণে মূলসড়ক ও  ফুটপাত সংকীর্ণ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়াও ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিং বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া  রাস্তায়-ফুটপাতে যেখানে-সেখানে গার্বেজ রাখা,পানের পিক ও সিগারেটের শেষ অংশ ফেলে পরিবেশ নোংরা করার বিষয়টি বিদেশীরা ভালো ভাবে গ্রহন করছে না। যা সত্যিই দুঃখ জনক বলে মন্তব্য করেছেন একজন পথচারী।

এ ব্যাপারে কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, ফুটপাত ও সংলগ্ন সড়ক দখলমুক্ত রাখতে ব্যবসায়ীদের সৎ ও সচেতন হতে হবে। সবাই সচেতন হলেই ফুটপাত দখলমুক্ত হবে। তারা বলেন, নিউইয়র্কের বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা মানুষ এখনো আইনের প্রতি তেমন শ্রদ্ধাশীল নয়। ফলে বার বার অভিযান ও জেল-জরিমানা করলেও তারা আইন মানছে না। আর যারা এসব করছে তারা মানুষের সমস্যার কথা ভাবে না। এটাই বড় সমস্যা।

একটি সামাজিক সংগঠনের নেতা  বলেন, পত্রিকায় এ ধরনের রিপোর্ট বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য বিব্রতকর, তবে আমাদের নিজেদেরও আরও বেশি নাগরিক দায়িত্ব জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে। সচেতন ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার জন্য নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলোকে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

 

 

Exit mobile version