জ্যামাইকার দেয়ালে শিল্পী টিপু আলমের ম্যুরাল

ন্ধান২৪.কমঃ রোববার জ্যামাইকার প্রধান সড়কের পাশে স্থাপিত হলো কার্টুনিস্ট টিপু আলমের একটি ম্যুরাল,যেখানে চিত্রিত হয়েছে এক টুকরো বাংলাদেশ।
ম্যুরালটি উদ্বোধন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় ও কাদেরী কিবরিয়া।

তাজমহল পার্টি হলের রাস্তা সংলগ্ন দেয়ালে শিল্পী টিপু আলমের নির্মিত ৩২ বাই ২০ ফুট দীর্ঘ এই ম্যুরালটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অ্যাক্রেলিকে আঁকা ম্যুরালটির বিষয় একটি শাপলা ঝিল। টলটলে জলে তাজা একগুচ্ছ শাপলা, যা দেখে কারও কারও মনে ফরাসি চিত্রকর ক্লদ মোনের আঁকা শাপলা ঝিলের কথা মনে পড়বে। টিপু আলমের ম্যুরালটির উপরিভাগজুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ শরতের আকাশ, তার রং হালকা নীল ও সাদা। বাঙালির চোখে এই আকাশ শুধু তার নিজস্ব, তার একার।
উদ্বোধন শেষে দর্শকদের মুক্তিযুদ্ধের গান গেয়ে শোনান দুই অতিথি কণ্ঠযোদ্ধা। শুরুতেই রথীন্দ্রনাথ রায় শোনান, ‘আমার এ দেশ সব মানুষের’। একাত্তরের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে গান পরিবেশনের আগে রথীন বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। সে যুদ্ধের অলিখিত দ্বাদশ সেক্টর ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। তিনি বলেন, ‘যে ছবি আমরা বুকের ভেতর নিয়ে ঘুরি,এখন তা নিউইয়র্কের দেয়ালে। এ তো ঠিক যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।’
কাদেরী কিবরিয়া প্রথমে ‘ও আমার দেশের মাটি’ গানটি পরিবেশন করেন। এ সময় তিনি বলেন,মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। শিল্পী টিপু আলম দীর্ঘদিন প্রবাসে, এই নিউইয়র্কে বসেই তিনি প্রায় নিরলসভাবে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন নানাভাবে।
টিপু আলম এর আগেও ব্রঙ্কসে আরেক বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষাসৈনিকদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গীকৃত আরেকটি দীর্ঘ ম্যুরাল নির্মাণ করেন।
উল্লেখ্য, জ্যামাইকায় নগর প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সরকারি উদ্যানে স্থাপিত হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি স্মরণে একটি স্মৃতিফলক।

Exit mobile version