সন্ধান ডেস্ক : গত ২৮ জুন জ্যামাইকায় মঞ্চস্থ হলো বুদ্ধদেব বসুর ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’। লোক নাট্যদলের প্রযোজনায় এই নাটকটি দেখার ব্যবস্থা করে বিপা।
ওই দিন রাতে জ্যামাইকা পারফর্মিং আটস-নাটকটি পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই দর্শক-শ্রোতাদেরকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য করেন বিপার এ্যানি ফেরদৌস। ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’ নাটক সম্পর্কে ধারণা দিয়ে বক্তব্য করেন নাট্য ও আলোক নির্দেশক এবং লোক নাট্য দলের প্রধান লিয়াকত আলী লাকী।

বুদ্ধদেব বসু ‘তপস্বী ও তরঙ্গিণী’র কাহিনী ও পটভূমি ভারতীয় পুরাণকে ধারন কওে নির্মিত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত মহাকাব্য ‘রামায়ণ’ ও মহাভারত’-এর কাহিনী অবলম্বন করে বুদ্ধদেব রচনা করেছেন এই আধুনিক নাটকটি। নান্দনিক অভিনয় ও শিল্পমুল্যে উজ্জ্বল এই নাটকের পৌরানিক পাত্র-পাত্রির মধ্য দিয়ে তিনি সঞ্চার করেছেন আধুনিক ও সমকালীন মানুষের দ্ব›দ্ব, বেদনা,আবেগ ও অনূভ‚তিকে। যা সাধারণ মানুষেরা ‘কাম’ নাম দিয়ে অপলাপ করে থাকে, তারই পথ ধরে দু’জন মানুষের পূণ্যের পথে উত্তরণের অসাধারণ প্রকাশনা এই নাটকে উপস্থিত।
এই নাটকের দুই উল্লেযোগ্য চরিত্র ঋষ্যশৃঙ্গ ও তরঙ্গিণী ছাড়াও রয়েছে লোলাপাঙ্গী, চন্দ্রকেতু, বিভাজক, রাজমন্ত্রী, অংশুমান ও রাজকুমারী শান্তা যারা প্রত্যেকেই তাদের জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, পাপ-পূণ্য, লাভ- লোকসানের হিসাবে ষোলআনা পাকা; ঠিক তাদের উল্টো চরিত্র ঋষ্যশৃঙ্গ ও তরঙ্গিণী, যারা আপন সত্তা সৃষ্টির সাধনায় আপনাকে জানতে ও খুঁজতে ব্যাকুল। বৈষয়িক লাভ-ক্ষতির ঊর্ধ্বে কেবল মানবিক দিকের প্রকাশ, স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও সত্তা হিসেবে মানবমূল্য খোঁজা ও বোঝার চেষ্টায় যারা রত থেকেছে ঋষ্যশৃঙ্গ ও তরঙ্গিণী।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াসমিন আলী, স্বদেশ দাস গুপ্ত,রুবেল সরকার,আবু বকর বকশি,মাহুদ সুমন,ফারহানা মিলি,শামিমা তুসি,মুমু মাসুদ,মুসা রুবেল,মাসরুবা জোতি,অনন্যা নিসি ও মিতু রহমান।
নাটক ঠিক আটটায় শুরু হবার কথা থাকলেও বিপত্তি বাধায় মঞ্চের পর্দা। নাটক শুরুর মুহূর্তে পর্দা সরাতে গিয়ে তা আটকে যায়। অবশেষে প্রায় একঘন্টা পর পর্দা সরিয়ে দিয়ে নাটক শুরু করা হয়। নাটকে আলোক পরিকল্পনা খুব দূর্বল ছিল। তবে সবার অভিনয় দর্শক-শ্রোতাদেও মন জয় করে নিয়েছে।