সন্ধান২৪.কম : ডলার হাতিয়ে নিতে মো. সুলতান হোসেনকে করের্ যাব পরিচয়ে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাতচক্র তুলে নিয়ে হত্যা করে। তার কাছে বিপুল পরিমাণ ডলার আছে ভেবে মতিঝিল থেকে তাকে অনুসরণ করেছিল ওই চক্র । চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ।
দি ফ্যাশন বায়িং হাউজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. সুলতান হোসেন (৪৬)। তার কাছে বিপুল পরিমাণ ডলার আছে ভেবে মতিঝিল থেকে তাকে অনুসরণ করের্ যাব পরিচয়ে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাতচক্র। গত ১৪ জুলাই তারা প্রথমে বাসে অনুসরণ করে সুলতানকে। মিরপুরের পলস্নবীতে নামার পরই তাকে ওই চক্রের কয়েকজনর্ যাব পরিচয় দিয়ে ভাড়া করা অ্যাম্বুলেন্সে ওঠায়। চেঁচামেচি করায় গামছা দিয়ে সুলতানের গলা পেঁচিয়ে ধরা হয় এবং পেছন থেকে তার হাত চেপে ধরা হয়। এ অবস্থায় চলন্ত গাড়িতেই শ্বাসরোধে মারা যান সুলতান। তার মৃতু্যর পর ছিনতাইকারী পুরো টিমসহ গাড়িটি গাবতলী-হেমায়েতপুর-সাভার হয়ে নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে ড্রাইভার ছাড়া পুরো টিম নেমে পালিয়ে যায়। ড্রাইভার সুমনও সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের অদূরে রাস্তার পাশে জঙ্গলে সুলতানের লাশটি ফেলে পালিয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। গুলশান গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, ওই হত্যাকান্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীর ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে সংঘবদ্ধ ছিনতাইচক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হুন্ডির ব্যবসায়ী, বেশি ডলার ভাঙায় কিংবা যারা মতিঝিলের ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন করে, এমন লোকদের টার্গেট করে। পরে তাদের অনুসরণ করে সুবিধাজনক স্থানে গিয়ের্ যাব পরিচয়ে গাড়িতে উঠিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থসহ যাবতীয় মালামাল ছিনিয়ে নেয়। তেজগাঁওয়ের বায়িং হাউজ কর্মকর্তা সুলতান তেমনি হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। এ ব্যাপারে গুলশান গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, গত ১৪ জুলাই বায়িং হাউজ কর্মকর্তা সুলতান অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় তার ভাই আবুল হোসেন গত ১৫ জুলাই তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একদিন পর ১৬ জুলাই মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের অদূরে মহাসড়কের ঢালে ঝোপঝাড়ের ভেতর একটি অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় আবুল হোসেন বাদী হয়ে ১৮ জুলাই তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মশিউর রহমান বলেন, প্রথমে চক্রটির সদস্য এবং সুলতানের অন্যতম হত্যাকারী ফরহাদ হোসেনকে শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার সরকার গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যে ১৫ আগস্ট প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সসহ ড্রাইভার জালাল উদ্দিন ওরফে সুমনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের মূল হোতা কাজী মো. আকবর আলী (৪৫), সাহারুল ইসলাম ওরফে সাগর (২১), আমিনুল ইসলাম ওরফে সবুজকে (৫০) রাজধানীর পুরানা পল্টন লাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃতর্ যাবের দুটি জ্যাকেট, একটি হাতকড়া, একটি ওয়্যারলেস সেট, একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন সংযুক্ত ৫ রাউন্ড গুলি, একটি ডামি পিস্তল ও একটি পিস্তলের কভার উদ্ধার করা হয়।
