সন্ধান২৪.কম ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসাবে কেন তিনটি কোরান ছুঁয়ে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি । তিনটি কোরান ব্যবহার করা ছিল সুন্দর একটি পরিকল্পনার অংশ, যাতে কোন বিতর্কের সৃষ্টি না হয়।
বৃহস্পতিবার বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্কের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে তিনটি কোরানের উপর হাত রেখে তিনি শপথগ্রহণ করলেন।
মামদানি যে তিনটি কোরান ব্যবহার করে শপথগ্রহণ করেন, তার একটি ছিল তাঁর দাদার ব্যক্তিগত কোরান, আরেকটি ছিল এই ঐতিহাসিক শোমবার্গ কোরান। এবং আর একটি ছিল সাধারণ কোরান।

এই তিনটি কোরান ব্যবহার করা ছিল সুন্দর একটি পরিকল্পনার অংশ, যাতে কোন বিতর্কের সৃষ্টি না হয়। এবং সে কথা মাথায় রেখেই মামদানির টিম শপথগ্রহণের জন্য একটি বিশেষ কোরান বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রতীক ব্যবহার করা, যা নিউ ইয়র্ক শহরের বহুত্ববাদী ও সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণের ইতিহাসকে তুলে ধরবে। সেই অনুসন্ধানের ফলেই সামনে আসে বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাসবিদ ও লেখক আর্তুরো শোমবার্গের সংগ্রহে থাকা একটি কোরান।
নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের কিউরেটর হিবা আবিদের সহায়তায় মামদানির উপদেষ্টা জারা রহিম এবং তাঁর স্ত্রী রামা দুয়াজি এই কোরানটির সন্ধান পান। আর্তুরো শোমবার্গ নিজে মুসলিম ছিলেন না। তিনি পুয়ের্তো রিকোতে জন্মগ্রহণ করেন, ক্যাথলিক পরিবারে বড় হন এবং পরবর্তীতে এপিসকোপাল চার্চের সদস্য হন। তা সত্ত্বেও, আফ্রিকান ও বিশ্ব ইতিহাসে গভীর আগ্রহের কারণে তিনি কোরান-সহ নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গ্রন্থ সংগ্রহ করেছিলেন।
লাইব্রেরির তথ্য অনুযায়ী, এই কোরানটি কালো ও লাল কালি দিয়ে লেখা, অত্যন্ত সাধারণ নকশার যা ইঙ্গিত করে এটি দৈনন্দিন পাঠের জন্য ব্যবহৃত হত। লিপি ও বাঁধাই বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এটি উনিশ শতকের অটোমান সিরিয়ায় তৈরি।
একটি ছিল তাঁর দাদার ব্যক্তিগত কোরান, আরেকটি ছিল এই ঐতিহাসিক শোমবার্গ কোরান। একটি ব্যক্তিগত শপথ অনুষ্ঠান হয় একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে, যা নিউ ইয়র্কের শ্রমজীবী ও অভিবাসী ইতিহাসের প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পরবর্তী জনসমক্ষে শপথগ্রহণের জন্য তিনি তাঁর দাদা-দাদির কোরান ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন।
নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির প্রেসিডেন্ট ও সিইও অ্যান্থনি ডব্লিউ মার্ক্স এক বিবৃতিতে জানান, এই মুহূর্তটি শহরের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ এবং লাইব্রেরির কোরান ব্যবহার করে শপথ নেওয়াকে তারা সম্মানের সঙ্গে দেখছেন। জানুয়ারি ৬ থেকে শোমবার্গের এই কোরানটি জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সব বিতর্ক, কটাক্ষ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত মামদানি কোরানেই শপথ নেন। তাঁর শপথগ্রহণ শুধু একজন মুসলিম মেয়রের সূচনা নয়, বরং নিউ ইয়র্ক শহরের বহুত্ববাদী ইতিহাস, অভিবাসী উত্তরাধিকার এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৩৪ বছর বয়সি ডেমোক্র্যাট নেতার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস। অন্যদিকে, পবিত্র কোরান হাতে উপস্থিত ছিলেন জোহরানের স্ত্রী রমা দুয়াজি।
নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসাবে শপথ নিয়েছেন মামদানি। পাশাপাশি, নিউ ইয়র্কের গত ১০০ বছরের ইতিহাসে ৩৪ বছর বয়সি মামদানিই হলেন কনিষ্ঠতম মেয়র। সুত্র: আজকাল ওয়েবডেস্ক


