সন্ধান২৪.কম ডেস্ক: বর্ণবিদ্বেষের রোষ কিংবা অ-মার্কিনি লোকজনের উপর হামলার ঘটনা আমেরিকায় নতুন নয়। এবার তেমন একটি ঘটনায় ওহাইয়োতে দায়ের করা হল হিংসামূলক অপরাধের মামলা। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে বছর খানেক আগেকার ঘটনায় মার্কিন যুবককে ১০ বছর কারাবাসের সাজা দেওয়া হবে। ২০২১ সালে ওহাইয়োর রাস্তায় এক এশীয় ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রায় ১ বছরের সাজা পেয়েছে সে। এবার সেই মামলাই নতুন মোড় নিল। ওই মার্কিন যুবকের বিরুদ্ধে ফেডেরাল হেট ক্রাইমের ধারায় মামলা শুরু হল। অর্থাৎ বর্ণবিদ্বেষ, জাতিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ওয়াইয়ো আরও কড়া আইন প্রয়োগ করতে চলেছে।
এটি গত বছরের ঘটনা । এশীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন ছাত্র ওহাইয়োর রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন । সিনসিনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিনি। ক্যালহন স্ট্রিট দিয়ে হাঁটার সময় আচমকাই তাঁকে লক্ষ্য করে অপমানজনক মন্তব্য করতে থাকে। তাকে উদ্দেশ্য করে ডারেন জনসন নামে এক যুবক বলতে থাকে, ”নিজেদের দেশে ফিরে যাও। তোমরাই এখানে ফ্লু ছড়াচ্ছ। তোমরা নিজেরাও এর জন্য মরবে।” নাম না করে না বললেও জনসন নিশানায় যে কোভিড, অর্থাৎ কোভিডের (COVID-19) জন্য সে এশীয় ছাত্রকে দায়ী করছে, তা স্পষ্ট ছিল। শুধু বলেই ক্ষান্ত হয়নি জনসন। ওই ছাত্রের মাথায় সজোরে ঘুসি মারে। গাড়ির বনেটে মাথা ঠুকে দেয়। পালটা মারামারির জন্যও এগিয়ে আসতে বলে। ঘুসি খেয়ে রাস্তায় পড়ে যান ছাত্র, মুখে আঘাত লাগে। আহত হয়ে কয়েকদিন হাসপাতালেও ভরতি ছিলেন তিনি।

এরপর দুই প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানের ভিত্তিতে মার্কিন আদালতে জনসনের সাজা হয়। ৩৬০ দিন কারাবাসে ছিল সে। এরপর ফের জনসনের কীর্তি দেখে আরও কঠিন শাস্তির কথা বিবেচনা করে আদালত। তাতেই তার বিরুদ্ধে ফেডেরাল হেট ক্রাইমের ধারায় মামলা দায়ের হয়। আমেরিকায় এই মামলা তখনই হয় যখন কোনও জাতি, ধর্ম, বর্ণ, জন্মস্থান, লিঙ্গ ও কোনওরকম শারীরিক ত্রুটি নিয়ে কাউকে আক্রমণ করা হয়। সেদিক থেকে এশীয় ছাত্রের প্রতি জনসনের আচরণ সম্পূর্ণভাবে এর আওতায় পড়ে। তাই ফের নতুন করে মামলার মুখে পড়েছে জনসন। দোষী সাব্যস্ত হলে অন্তত ১০ বছরের কারাবাসের সাজা পাবে। ওয়াকিবহাল মহলের মত, হিংসামূলক অপরাধ কমাতে আইন আরও কড়া করতে চাইছে ওহাইয়ো প্রশাসন।


