সন্ধান২৪.কম : ফুরফুরা শরিফেরই আর এক পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর সঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের সম্পর্ক কার্যত আদায় কাঁচকলায়। মঙ্গলবার সেই আব্বাস ঘোষণা করলেন, আর কয়েক দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দল ঘোষণা করতে চলেছেন তিনি। অন্য দিকে ফুরফুরা শরিফের এক পিরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ‘দৃশ্যত’ ভাল।

এ দিনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে একটি ধর্মীয় জলসায় নাম না করে আব্বাসের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন ত্বহা। পরোক্ষে আব্বাসকে বিঁধে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘ভোটের নামে কুড়ি থেকে ত্রিশ কোটি টাকা তুলেছো!’’
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এ দিনই আবার ফুরফুরায় গিয়ে আব্বাসের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এবং বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান।
আব্বাসের দল গড়ার ঘোষণা এবং তার অব্যবহিত পরে তাঁরই ‘শক্ত ঘাঁটি’ ভাঙড়ে দাঁড়িয়ে ত্বহার মন্তব্য ফুরফুরা শরিফের দুই পিরজাদাকে রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় এনে দিল।

সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন হয়নি, এই অভিযোগে ত্বহার ভাইপো আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করছেন তৃণমূলের। সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করাতে তাঁকে বিজেপি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও আব্বাস সেই অভিযোগ বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছেন। এ দিন তাঁর বিরুদ্ধে ত্বহার মন্তব্য শুনে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, আব্বাসকে রুখতে ত্বহাকে ব্যবহার করা শুরু করল তৃণমূল। যদিও ভাঙড়ের ওই জলসায় ত্বহা বলেন, ‘‘এখানে তৃণমূলের দালালি করতে আসিনি।’’ তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনে ফের এই সরকার (তৃণমূল) ক্ষমতায় আসবে।’’
ঘটনাচক্রে, এ দিনই ফুরফুরা শরিফে গিয়ে আব্বাসের সঙ্গে দেখা করেন অধীর ও আব্দুল মান্নান। বৈঠকও হয় তাঁদের। অধীরের বক্তব্য, ‘‘ফুরফুরা শরিফ বাংলার সব ধর্মের মানুষের কাছে ধর্মনিরপেক্ষতার পীঠস্থান। সেই তীর্থস্থানের যাঁরা পরিচালক, তাঁদের কাছে এসেছিলাম বাংলার মানুষের জন্য আশীর্বাদ চাইতে।’’ আর আব্বাসের বক্তব্য, ‘‘এটা মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ। সব রাজনৈতিক দলের নেতারাই এখানে আসেন। উনিও এসেছেন।’’ তারপর যোগ করেন, ‘‘আগামী ডিসেম্বরে রাজনৈতিক দল ঘোষণা করছি। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল-সহ সব দলকেই পাশে চাইছি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য।’’
আগামী বিধানসভা ভোটে ৪৪টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন আব্বাস। ইতিমধ্যেই ভাঙড়, ক্যানিং (পূর্ব) বিধানসভা এলাকা-সহ বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় জলসায় গিয়ে রাজনৈতিক প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে ভাঙড় এবং ক্যানিংয়ে তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের সংঘর্ষও ঘটেছে। এ দিন আব্বাস যখন দল গড়ার কথা বলছেন, তখন ভাঙড়ের ধর্মীয় জলসায় চোখা-চোখা শব্দে তাঁকে আক্রমণ করছিলেন ত্বহা। আব্বাসকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তুমি মাঠে ফুটবল খেলতে নামলে অন্য দলের ফুটবলাররা ফাউল করবে। তখন তুমি পিরের বংশধর বলে চিৎকার করবে, তা হবে না। রাজনীতি করতে নামলে তোমাকে এ সব সহ্য করতে হবে।’’


