সন্ধান২৪.কম : এম সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছিলেন দুই ধর্ষক। একজন সুনামগঞ্জ ছাতকের সুরমা নদী পাড়ি দিয়ে সীমান্তের বেশ কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। অপরজন হবিগঞ্জ মাধবপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম মনতলায় ঘাপটি মেরে বসেছিলেন নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায়। কিন্তু তাদের সেই সীমান্ত পাড়ি দেওয়া হয়নি। পুলিশের দল সময়মতো ঠিকই পৌঁছে যায় তাদের ডেরায়। গতকাল এভাবেই গ্রেফতার করে পুলিশ।
নদী পারাপারের সময় ধরা পড়েন সাইফুর : দাড়ি কেটে নিজের চেহারায় পরিবর্তন আনেন গণধর্ষণের মূলহোতা সাইফুর রহমান। গতকাল সকালে সুনামগঞ্জের ছাতক বাজার দিয়ে সুরমা নদী পার হয়ে নোয়ারাই পৌঁছান তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে ওতপেতে ছিল ছাতক থানার এসআই হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। নোয়ারাই পৌঁছার পর পুলিশ সাইফুরকে গ্রেফতার করে। কিন্তু দাড়ি কেটে চেহারায় পরিবর্তন আনায় সাইফুরের পরিচয় নিয়ে বিপাকে পড়ে পুলিশ। শুরুতে সাইফুরও পুলিশকে বিভ্রান্ত করে। পরে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সাইফুর তার নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি ধর্ষক সাইফুর। পরে তাকে সিলেটের শাহপরান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের জেরায় সাইফুর জানিয়েছেন, ছাতকে সুরমা নদী পাড়ি দিয়ে নোয়ারাই হয়ে প্রথমে বাংলাবাজার ও পরে সেখান থেকে দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হয় তাকে।
ভারত সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন অর্জুন : গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। অর্জুন লস্কর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে। তিনি এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের পাশর্^বর্তী রাজপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পুলিশ জানায়, গণধর্ষণের ঘটনার পরই সিলেট থেকে পালিয়ে যান মামলার ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর। আশ্রয় নেন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মনতলা দুর্লভপুর সীমান্ত এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখানে তিনি অপেক্ষায় ছিলেন সিগন্যালের। সিগন্যাল পেলেই তার সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল।
