সন্ধান২৪.কম : ১২ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসার দুই শিক্ষক আল-আমিন ও ইউসুফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে বিচারক দেলোয়ার হোসেনের এজলাসে শনিবারসন্ধ্যায় ওই দুই শিক্ষক জবানবন্দি দেন। অপর শিক্ষক আলামিন একইভাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জানান, অভিযুক্ত দুই মাদরাসা শিক্ষক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই মাদরাসা ছাত্রের জড়িত থাকার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তা প্রকাশ করেননি। উল্টো তাদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনায় মামলা হলে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ তাদের দুই শিক্ষককেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জবানবন্দিতে মাদরাসা শিক্ষক ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত আবু বক্কর নাহিদ তার মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। ঘটনার দুই তিন দিন আগে ইউসুফসহ আবু বকর ও রাহিদ কুষ্টিয়ার মার্কেটে যান। তাদের মার্কেটে যাওয়া আসার পথে শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি তাদের নজরে পড়ে। এরপর গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে আবু বক্কর ও নাহিদের যুক্ত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। পরে তাদের মাদরাসা থেকে নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ভাঙচুরের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ তাদের দেখালে অভিযুক্ত দুজনকে চেনা সত্ত্বেও স্বীকার করেননি।

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) রাতের কোনো একসময় ভাস্কর্যের মুখ ও হাতের অংশ ভেঙে ফেলে তারা। ২০০৩ সালে শহরে সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে এখানে জাতীয় ফুল শাপলার একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করে কুষ্টিয়া পৌরসভা। এরপর থেকে এটি শাপলা চত্বর হিসেবে পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রতি শাপলার ভাস্কর্য ভেঙে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ শুরু করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।


