সন্ধান২৪.কম: শিশু দুটির মাথা থেকে হাত-পায়ের প্রতিটি আঙুল পর্যন্ত ক্ষতবিক্ষত । শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আগুনে পোড়া ঘায়ের মতো অগুনতি ছোট-বড় কালো দাগ। । গরম খুন্তির খোঁচা আর পিটুনির শিকার শিশু দুটি যন্ত্রণাকাতর ছোট্ট দেহ নিয়ে কাতরাচ্ছে হাসপাতালে।এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব শাকিলের স্ত্রী রুমানা জামান ঝুমুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । শিশু গৃহকর্মীর ওপর বর্বর নির্যাতনের পৃথক এ দুটি ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকা ও শেরপুরের শ্রীবরদীতে।

রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত শিশুটির নাম মনি (১২)। বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের খামা গ্রামে। অন্য ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের শ্রীবরদীতে। আর নির্যাতিতা ফেলিকে (১০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার মধ্যরাতে শিশুটিকে উদ্ধার করে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল শনিবার তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব শাকিল স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শহরের বিথি টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় ভাড়া থাকেন। প্রায় এক বছর ধরে তাঁর বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত পৌর শহরের মুন্সীপাড়ার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া পারভিন ফেলি। শুরু থেকেই শাকিলের স্ত্রী রুমানা জামান ঝুমুর নানা অজুহাতে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। গত ১৫ দিন ধরে টানা নির্যাতনে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে দুই দিন আগে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটির পরিবার গত শুক্রবার রাতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনা জানালে পুলিশ শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ঝুমুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতনের শিকার ফেলি জানায়, শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, তাকে ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। বাড়ি যেতে চাইলে গৃহকর্ত্রী আরো বেশি মারধর করতেন। মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতেও দিতেন না। আর মারধরের সময় বাসার আর কেউ তাকে থামাতে এগিয়ে আসত না।
ফেলির বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পশুর ওপরও এভাবে অত্যাচার করা হয় না। নেতার বাড়িতে সুখে থাকব, ভালো খাওয়া পাবে, এমন আশায় মেয়েটারে কাজে দিছিলাম। আর ওরা আমার মেয়েরে নির্যাতন কইরা মারার জোগাড় করছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।’
হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, শিশুটির সারা শরীরে নির্যাতনের নতুন-পুরনো অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। শরীরের স্পর্শকাতর স্থানও বাদ যায়নি। পেটে পানি এসে গেছে। শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া রুমানা জামান ঝুমুরকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মেয়েটিকে রক্ষা করতে পুলিশ সার্বিক চেষ্টা চালাচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী তালদশী গ্রামের ইন্নছ আলীর মেয়ে মরিয়ম প্রায় আট মাস আগে মনিকে ঢাকার আজমপুরে রয়েল-জবা দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে দেন। ওই দম্পতি আজমপুর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। কিছুদিন পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে গৃহকর্ত্রী জবা বেগম মনিকে বকাঝকা ও নির্যাতন শুরু করেন।


