সন্ধান২৪.কম : কলকাতায় পুজা মণ্ডপ দর্শনে আদালতের রায় পুজো পরিক্রমায় বাঁধা পরালেও রেস্তরাঁ, শহরের ছোট-বড় খাবারের দোকানে জমে উঠেছিল আড্ডা। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বাড়ির বাইরে বেরনোর প্রশ্নে পঞ্চমী-ষষ্ঠী-সপ্তমী নাগরিকদের বড় অংশ সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু নবমীর ভিড় আদালতের রায় উপেক্ষা করে প্রচুর মানুষ পথে নেমেছে।
গত ১৯ অক্টোবর পুজো মণ্ডপগুলিতে দর্শক ঢোকা নিষিদ্ধ করে কলকাতা হাইকোর্ট। তারপর চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমীতে আবহাওয়া ও করোনার কারণে শহরের পথঘাটে চেনা উৎসব-উল্লাসের মুহূর্ত চোখে পড়েনি। কিন্তু আবহাওয়া ভাল হতেই অষ্টমীর রাতে পুজোর ভিড়ের দেখা মিলেছে রাস্তাঘাটে। নবমীতে হুমড়ি খেয়ে নেমে আসে পুজায়। সেই সব পুজো-মুহূর্তের হাত ধরে আক্রান্তের সংখ্যায় কতটা বদল ঘটবে, তা নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা রয়েছে। চিকিৎসক অর্জুন দাশগুপ্তের কথায়, ‘‘পুজোর সময় মণ্ডপে ভিড় না হলেও মেলামেশা হয়েছে, এটাও ঠিক। সেটাই যা উদ্বেগের।’’

এক জন ‘সুপার স্প্রেডার’ একসঙ্গে কত জনকে সংক্রমিত করতে পারেন, তা নির্ধারণ কি সম্ভব? দুর্গাপুজোর আগে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল গবেষক এবং চিকিৎসক মহলে। কারণ, ‘নিয়ন্ত্রিত’ পুজো-দর্শনের কথা বলা হলেও অষ্টমীর সন্ধ্যা থেকেই কলকাতায় বহু মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছিলেন। ফলে করোনা মারাত্মক হারে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক জন ‘সুপার স্প্রেডার’ কত জনকে সংক্রমিত করতে পারেন, সেটা নির্দিষ্ট ভাবে বলা সম্ভব কি না, তা জানতে চাওয়া হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শদাতা তথা সিডিডিইপি-র ডিরেক্টর রামানন লক্ষ্মীনারায়ণ বলেন, ‘‘সংক্রমণ ছড়ানোর উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এক জন সুপার স্প্রেডার একসঙ্গে অনেককে সংক্রমিত করতে পারেন। কত জনকে তিনি সংক্রমিত করতে পারবেন, তা নির্ভর করছে কত জন তাঁর সংস্পর্শে আসছেন তার উপরে।’’
সিডিডিইপি-র সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র আট শতাংশ আক্রান্তের মাধ্যমে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ মানুষ নতুন ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। পুজো পরিস্থিতিতে এই সমীক্ষা আলাদা মাত্রা পেয়েছে। কারণ, এত কম আক্রান্ত যদি এত বেশি মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন, তা হলে ভিড়ে কী হতে পারে, তা অনুমেয়।’’
এরই মধ্যে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সার্বিক ভাবে দেশে সংক্রমণ কমলেও, উৎসবের কারণে কয়েকটি রাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়েছে। যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে মোট সংক্রমিতের ৭৮ শতাংশ রোগী রয়েছেন ১০ রাজ্যে। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। পঞ্চম স্থানে পশ্চিমবঙ্গ। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ করোনায় মৃতের সংখ্যা ৬৫৪৬। অন্য দিকে, কেন্দ্রের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী মৃত্যুর নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা-আক্রান্তের নিরিখেও দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ ।
কার্ডিওথোরাসিক সার্জন কুণাল সরকার জানান, নবমীতে নাগরিকদের একাংশের ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে ঠিকই। তবে পুজোর ভিড়ের হাত ধরে সংক্রমণের যে মাত্রাবৃদ্ধির আশঙ্কা ছিল তা হাইকোর্টের নির্দেশের জেরে অনেকটা কমবে বলে মনে হয়। তাঁর কথায়, ‘‘শেষ পর্যন্ত জনতা কাপ নিয়ে গেল কি না, আরও দু’সপ্তাহ পরে বোঝা যাবে।’’