সন্ধান২৪.কমঃ পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের ৫টি জেলার বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) ৩০ কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফা ভোট ছিল। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সংঘর্ষ, বোমাবাজি, গাড়ি ভাঙচুর, এজেন্টদের তাড়িয়ে দেয়া, প্রর্থীর ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনা ও নানা অভিযোগের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপের পরেও নানা সন্ত্রাসী ঘটনা রাজ্যবাসিকে আতঙ্কিত করেছে। রাজ্যবাসির প্রশ্ন এত হাকডাক যেন বজ্র আটনি ফস্কা গেরোতে পরিণত হয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নন্দীগ্রাম ঝড় তুললেন মীনাক্ষী
বামফ্রন্টের তরুণ-তুর্কি নেত্রী মীনাক্ষী। ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক। জীবনের প্রথম নির্বাচনেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েটদের মুখোমুখি হয়েছেন। বিনা যুদ্ধে ছাড়েননি একটুও জমি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। এবং প্রথমবার লড়াইয়ে নেমেই অন্য সব তরুণ বামপ্রার্থীদের কাছে প্রেরণা হয়ে উঠেছেন।
চিটিংবাজি হয়েছে, গণতন্ত্র আজ বিপন্ন- মমতা
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করছে আধা সামরিক বাহিনী। নন্দীগ্রামে বয়ালের বুথ থেকে বেরিয়ে অভিযোগ এই অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বহিরাগত এনে ভোট করানোর অভিযোগ তোলার পাশাপাশি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মমতা অভিযোগ, বৃহস্পতিবার কয়েকটা এলাকার লোকদের ভোট দিতে দিচ্ছে না। বিজেপির প্রার্থী চূড়ান্ত অসভ্যতা করেছে। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তা-ব করছে। কমিশনে ৬৩টি অভিযোগ পাঠিয়েছি। আমি নন্দীগ্রাম নিয়ে চিন্তিত নই। চিন্তিত গণতন্ত্র নিয়ে। কাউকে ভোট দিতে দেয়নি। এখানে চিটিংবাজি হয়েছে।
মিডিয়ার গাড়িতে হামলা
‘বিজেপির হয়ে খবর করতে এসেছিস’ এই বলে জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিকের উপরে চড়াও হল একদল দুষ্কৃতী। ভাঙচুর করে দেয়া হলো গাড়ির কাচ। কোন ক্রমে রক্ষা পেলেন রিপোর্টার মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য ও ক্যামেরাম্যান।
এদিকে কেশপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রীতীশরঞ্জন কোঙার জানতে পারেন, গুনহারা এলাকায় বুথ দখল করা হচ্ছে। খবর পেয়ে সেখানে যান বিজেপি প্রার্থী কোঙর। এই খবরের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জি-২৪ ঘণ্টার গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এলাকার বাড়ি থেকে একদল লোক বেরিয়ে এসে দা, কাটারি, লাঠি, বাঁশ নিয়ে সাংবাদমাধ্যমের গাড়ির দিকে এগিয়ে এসে তারা বলে, বিজেপির পক্ষে খবর করতে এসেছিস। তৃণমূলের বিরুদ্ধে?
ভোটের বলি একজন
সকালে ভোট শুরুর আগেই রক্ত ঝরল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে। উত্তম নামে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অভিযোগ, কেশপুরের চার নম্বর অঞ্চলের দাদপুর গ্রামে নিহত ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। তারা ছুরি দিয়ে তারা উত্তমের পেটে কোপ দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে তৃণমূল। সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পদ্ম শিবির। এই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
