সন্ধান২৪.কমঃ বুধবার (২ জুন) ভারতে নারী পাচার ও যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার পাচারকারী চক্রের মূল হোতা আশরাফুল ইসলাম রাফিসহ চারজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রাফি ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- আব্দুর রহমান শেখ, ইসমাইল সরদার ও মোছা. সাহিদা বেগম। টিকটক মডেল বানানোর ফাঁদে ভারতে নারী পাচার চক্রের হোতা আশরাফুল মণ্ডল ওরফে রাফিসহ চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাফি পাঁচ বছরে কয়েকশ নারী ভারতে পাচারের সঙ্গে জড়িত। শুধু রাফি নয়, তার স্ত্রী ও তার দুই ভাগ্নেও নারী পাচারে জড়িত।

সে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। ভারতে পাচার হওয়া এক নারীকে নির্মম নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় সেদেশে গ্রেফতার টিকটক হৃদয় বাবুর গুরু হিসাবেও পরিচিত রাফি।
সোমবার (৩১ মে) ও মঙ্গলবার (১ জুন) র্যাব এর অভিযানে ঝিনাইদহ সদর, যশোরের অভয়নগর ও বেনাপোল হতে নারী পাচার চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে জানায় র্যাব।
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি ফাইভ স্টার আদলে এক হোটেলে প্রতি সপ্তাহে টিকটক গ্রুপের পুল পার্টির আয়োজন হয়। এই পুল পার্টিতে উঠতি বয়সের তরুণীরা অংশ নেয়। তারা টিকটক ভিডিও প্রদর্শন করার পর যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের মধ্য থেকে পাচারের জন্য বাছাই করা হত। টিকটক মডেল করার লোভ দেখিয়ে পুল পার্টি থেকে কয়েকশ’ তরুণীকে পাচার করা হয়েছে প্রতিবেশী ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এই চক্রের মাধ্যমে এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক তরুণীকে ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যে পাচার করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশের এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশ রিফাজুল ইসলাম বাবু ওরফে টিকটক হৃদয় বাবু, সাগর, মোহাম্মদ বাবা শেখ, হাকিল ও দুই নারীসহ মোট ৬জনকে গ্রেপ্তার করে।


