সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদন : নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ও অন্যান্য দলের রাজনীতি এখন অসুস্থ, কুৎসিত ও অপরাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই অপরাজনীতির চর্চাকে ভালো ভাবে গ্রহন করছে না। আওয়ামী লীগ ও বিএরপি পাশাপাশি সমাবেশ করলেই প্রায়ই তা হিংসাত্মক ও সহিংস হয়ে পড়ছে। সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠছে। এমন পরি¯ি’তি কমিউনিটির সাধারণ মানুষের জন্য সুখকর হয়ে উঠছে না।
সম্প্রতি কোটাসংস্কার ইস্যুতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী-বিএনপির সমাবেশ প্রায় প্রতিদিনই অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে চলছে। যা নিয়ে আজকাল প্রতিনিধির কাছে কয়েজন নাগরিক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
গত ২২ জুলাই ব্রঙ্কসে কোটা সংস্কারের ইস্যুতে পক্ষে-বিপক্ষের সমাবেশে অপ্রিতিকর এমন এক ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সহযোগী সংগঠন ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির ‘বাংলাদেশে কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি’র প্রতিবাদ সমাবেশে এনআরবি কমার্সিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলীকে প্রতিপক্ষ ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা ফরাসত আলী আজকাল প্রতিনিধিকে বলেন, আমরা পূর্ব নির্দ্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী আমাদের সমাবেশ করছিলাম। বেশ শান্তিপূর্ণ ভাবেই সমাবেশ চলছিল। কিন্ত পরিকল্পিত ভাবে জামাত-শিবির,ছাত্রদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা
আমাদের সমাবেশটি ভ‚ন্ডুল করে দেয়। সরাফত আলী বলেন, জামাত-শিবির সমর্থিত বেশ কিছু উৎশৃঙ্খল ছেলে আমাদের সমাবেশে কাছে জড়ো হয়ে নানা রকম উস্কানীমূলক শ্লোগান ও বক্তব্য দিতে থাকেন। এক সময় তারা আমাকে ও আমার নেত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগত আক্রমন করে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমাদের সমাবেশ থেকে কয়েকজন কর্মী তাদেরকে এমন কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথা বলার নিষেধ করে। এক পযার্য়ে উত্তেজিত জামাত-শিবিরের কর্মীরা আমার উপর চড়াও হয় এবং আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিএনপির নেতা ইমরান শাহ রনো বলেন, সমাবেশ¯স্থলের কাছেই আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে আমি চা খেতে একটি রেষ্টুরেন্টে যাই। সেখানে আওয়ামী লীগের সমাবেশের কিছুটা দূরে ¯স্থানীয় কিছু ছাত্র-জনতা কোটাসংস্কার আন্দোলনের সমর্থনে আর একটি সমাবেশ করে। এক সময় উত্তেজিত ছাত্র-জনতা আমাকে অভিযোগ করে বলে, আওয়ামী লীগ আমাদেরকে গালিগালাজ করে এবং হুমকি দিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে এটি বন্ধ করতে হবে। আমি তাদের বুঝিয়ে বলি, সমাবেশ করা সবারই গণতান্ত্রিক অধিকার। আর সমাবেশে কিছু গরম গরম শ্লোগান হবেই, এ নিয়ে এখানকার পরিবেশ নষ্ট করার কোন কারণ নেই বলে আমি তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করি। দুই সমাবেশের শ্লোগান পাল্টা শ্লোগানের এক পর্যায়ে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এর মধ্যে ফরাসত আলী একজন ছাত্রের কলার চেপে ধরলে সেই ছাত্রটি ফরাসত আলীর হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করতে গেলে ফরাসত আলী মাটিতে পড়ে যান। ইমরান আজকাল প্রতিনিধিকে প্রশ্ন করে বলেন, একজন নাতীর বয়সী ছাত্রকে কি ভাবে ফরাসত আলী কলার চেপে ধরেন, এটি কি তার ঠিক হয়েছে ?
শুধু ব্রঙ্কসেই নয় এমন ঘটনা জ্যাকসন হাইটস,ব্রুকলিন,ওজন পার্কসহ বিভিন্ন এলাকায় অহরহ ঘটছে। কখনও নিজেদের দলের মধ্যে আবার কখনও প্রতিপক্ষ দলের সাথে।
সিনিয়র সিটিজেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, জনস্বার্থ ইস্যুর চেয়ে আওয়ামী-বিএনপি তাদের দলের ও ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে অব্যাহত ভাবে মিছিল.মিটিং,সভা,সমাবেশ, বিক্ষোভ করে। এসব জনবি”িছন্ন নেতিবাচক কর্মসূচি কোন না কোন ভাবে বিশৃঙ্খলা,হৈ হট্টগোল,ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া,মারামারি, পুলিশ ডাকাডাকি ও নৈরাজ্যময় পরিস্থি’তির সৃষ্টি হয়। এগুলো বিদেশীরা ভালো ভাবে গ্রহন করছে না। এর ফরে আমাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি দিন দিন ধূসর হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক কর্মী মতলুবর রেজা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ,বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে বিভিন্ন গ্রুপিং.কাদা ছোড়াছুড়ি,বহি:স্কার পাল্টা বহি:স্কার,ক্ষমতার দ্ব›দ্ব লেগেই আছে। সেখান থেকে সৃষ্টি হচ্ছে অবিশ্বাস,সামাজিক দুরত্ব ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি, যার কুপ্রভাব কমিউনিটিতে এসে পড়ছে। যা মোটেও কাম্য নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে তিনি দ্রত নষ্ট রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানান।
নাট্যকর্মী দিলীপ মোদক বলেন, এখানকার বাংগালিরা অসুস্থ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করেছে। তারা রাজনীতির মধ্যে ‘পলিটিক্স’ ঢুকিয়ে দিয়ে পরিবেশকে ঘোলা করে চলছে। কিন্ত প্রশ্ন হল, এগুলো করে লাভ কী ? শুধু নিজেদেরকে নিউইয়র্কে মূলস্রোতের কাছে খেলো আর হাস্যকর করে তোলা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ট্যক্সি চালক মোফাজ্জল হোসেন তার ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়ায় জানান, রাজনীতি হয়ে থাকে মানুষের কল্যাণের জন্য, সমাজের মঙ্গলের স্বার্থে। যে সকল কর্মকান্ডে মানুষের ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে, সে সকল কর্মকান্ড কখনোই রাজনীতি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে না।
কিন্ত বর্তমানে দেশের নিউইয়র্কে একটি ভয়ের অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা থেকে ভালো এবং মহৎ কিছু আশা করা যায় না। এর থেকে উত্তরণের পথ খুজে বের করতে হবে।


