সন্ধান২৪.কম: শত শত বই প্রেমিক বাঙালির অংশগ্রহণে সোমবার শেষ হয়েছে চার দিনব্যাপী ৩২তম ‘নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা’। এবার মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন কবি আসাদ চৌধুরী।
সোমবার (১৭ জুলাই) মেলার শেষ দিনে নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্ট সেন্টারে বইপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনাদের ঢল নেমেছিল। এদিন গভীর রাতে আনুষ্ঠানিক ঘোষনার মধ্য দিয়ে চারদিনের আনন্দ-উচ্ছ¦াসের পর্দা নামে। ২৪ সালে সপ্তাহব্যাপী বইমেলার আয়োজন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন বিশ্বজিৎ সাহা।

১৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে মেলার উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে ফিতা কেটে বইমেলার উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) সিতারা বেগম, বীর প্রতীক। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন দুইবাংলার শিল্পী,সাহিত্যিক ও প্রকাশকরা।
তসলিমা নাসরিন গত ১৫ জুলাই শনিবার বিকেলে বইমেলায় আসেন। তসলিমা নাসরিন আসার সাথে সাথে বইমেলায় চিত্র একেবারে পাল্টে যায়। তাকে ঘিরে মেলার প্রাঙ্গন নতুন আনন্দে জেগে ওঠে,প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। অসংখ্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্খি তসলিমা নাসরিনের বই কিনে অটোগ্রাফ নেন,তার সংগে ছবি ও সেলফি তোলেন। সময় যত বাড়তে থাকে, তসলিমা নাসরিনের চারপাশে তার ভক্তদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

বইমেলার উন্মুক্ত প্রাঙ্গন এবার বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছিল। নতুন বইয়ের প্রকাশনা উৎসব করার জন্য খোলা মাঠেও ছিল নান্দনিক মঞ্চ। এছাড়া মেলাকে চিরায়ত বাঙালিয়ানায় সাজানোর জন্য গ্রামবাংলার সংস্কৃতি মাছ ধরার পলই, একতারা-দোতারা,বাঁশী,হুকা,হেরিকেন, মাথায় দেয়া মাথাইল,ডুগডুগি, মাটির বাসন, তালপাখায় সজ্জিত ছিল একটি স্টল।
এবার মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরষ্কার পেয়েছেন কবি আসাদ চৌধুরী। রোববার মেলার ৩য় দিন সন্ধ্যায় কবি আসাদ চৌধুরীর পক্ষে ক্রেস্ট ও তিন হাজার ডলার প্রাইজমানি গ্রহণ করেন তার সহধর্মিনী সাহানা চৌধুরী ও কন্যা নুসরাত জাহান চৌধুরী। পুরস্কারটি তুলে দেন জিএফবি গ্রæপের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক ভূঁইয়া । বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থা থেকে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা’ পুরস্কার পেয়েছে নালন্দা ও কথাপ্রকাশ। এটি তুলে দেন সমাজসেবী ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।


বইমেলার ৩২তম আসরে বাংলাদেশ থেকে ২৫টি প্রকাশনা সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দশটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। আগের মেলার তুলনায় এবার বেশি স্টল ছিল। কিন্ত এবার আশানুরূপ বই বিক্রি হয় নাই বলে প্রকাশকরা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানসূচীতে ছিল চলচ্চিত্র প্রদর্শনী,প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সেমিনার, গান ও কবিতা পাঠ। মেলায় নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে, মেলা উপলক্ষে আদনান সৈয়দ সম্পাদিত বিশেষ সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।
সোমবার মেলার শেষ দিনটি রাখা হয়েছিল শিশু কিশোরদের জন্য। পুরো দিনের কর্মসূচিতে শিশু-কিশোরদের প্রাধান্য ছিল। মিলনায়তনের বাহিরে তাদের আয়োজনে এবং অংশগ্রহণে ছিল নাচ-গান, কবিতা আবৃত্তি ও ছবি আঁকা।

মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত সাহা বলেন, যদি কমিটি অনুমোদন দেয়, আগামী ২৪ সালে ৭ দিনব্যাপী বইমেলা হওয়ার সম্ভবনা আছে। এরই মধ্যে অনেক দর্শনার্থী আমাদের অনুরোধ করেছেন মেলার সময় বাড়ানোর। তাদের কথা ভেবে আগামীতে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা করা যায় কিনা সে বিষয়ে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন কমিটি চিন্তাভাবনা করছে।
৩২তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলার আহবায়ক ড. আব্দুন নূর বলেন, চারদিন সবাই মিলে একটি পরিবারের মত ছিলাম। যারা এসেছেন মেলায় বেশিরভাগই পরিবার নিয়েও এসেছিলেন। এ মিলনমেলা ভেঙে যাওয়ায় খারাপ লাগছে। একই সঙ্গে ভালো লাগছে মেলাটি সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়েছে বলে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া থেকে অনেক লেখক নিউ ইয়র্ক এসেছেন। কলকাতার কবি সুবোধ সরকার, লেখক ও কলকাতা বইমেলার সভাপতি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, নারীবাদী লেখক কনা বসু মিশ্র। বাংলাদেশ থেকে এসেছেন কণ্ঠশিল্পী সেলিম চৌধুরী, অনিমা রায়, তানভীর আলম সজীব। কানাডা থেকে মৈত্রেয় দেবী। অংশগ্রহণ করছেন নিউ ইয়র্কের বাঙালি শিল্পীরাও।
সংস্কৃতিকর্মী ও সাংবাদিক তোফাজ্জল লিটন জানান, বইমেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীরা নিজেদের মতো করে গেয়েছেন গান। হয়েছে প্রতিবাদ অনুষ্ঠানও। বাংলাদেশের গাইবান্ধা স্টেডিয়াম সংলগ্ন রাষ্ট্রস্বীকৃত জেলার প্রধান বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবিতে ‘নিউইয়র্ক প্রবাসী গাইবান্ধাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন হয়েছে বইমেলা প্রাঙ্গণে। বই বিক্রির পাশাপাশি মেলার সমরেশ মজুমদার মঞ্চে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, কবিতা আবৃত্তি, সেমিনার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।


