সন্ধান২৪.কম: যুক্তরাষ্ট্রে আর কয়েকদিন বাদেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ এপ্রিল উদযাপিত হতে পারে রোজার ঈদ। ঈদের আগের দিন নিউইয়র্কে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় চাঁদনী রাতের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এদিন জ্যাকসন হাইটস,জ্যামাইকা,ব্রঙ্কস,ব্রুকলিন, এষ্টোরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় চাদনী রাতের জমজমাট আসর বসবে। নারীর মেহেদীর রঙে রাঙিয়ে তুলবেন তাদের হাত।

ঈদকে সামনে রেখে নিউইয়কের কিছু এলাকা নতুন করে সাজিয়ে উঠেছে। কোন কোন রাস্তায় সিটির পক্ষ থেকে আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ঈদের ক্রেতাদের আকর্ষন করতে কোন কোন দোকানও নানা রঙে সাজিয়ে উঠেছে। বাহারি ডিজাইনের পোশাকে সাজানো হয়েছে নিউইয়র্কের দোকানগুলো।
ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, বিভিন্ন দোকানে ততই ক্রেতা সমাগম বাড়ছে। ক্রেতারা বলছেন অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর পোশাকের দাম অনেকটাই বেশি। তারপরও পরিবারের ঈদ আনন্দের কথা ভেবে কিনতেই হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকেই ঈদের কেনাকাটা শেষ করেছেন।
এবারের ঈদে নিউইয়র্কের বিভিন্ন দোকানে এসেছে নিত্য-নতুন সব পোশাকের সমাহার। বাংলাদেশের পোশাকের পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তান থেকেও নানা ধরনের পোশাক আসছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে পোশাক এসেছে।
নিউইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অনেক বাঙালি দোকান রয়েছে। সেসব দোকানে পুুরো পরিবার নিয়ে তাদের পছন্দের এবং পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটা করছেন। কিনছেন টুপি,জায়নামাজ ও আতর-সুরমা।
এবার ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে কাঞ্জুবরণ,সুতি,জামদানী, ¯িøক, পাইনিসিল, হুসকি, জর্দান, কাতান, চেন্নাই সিল শাড়ি, ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, মেয়েদের থ্রি পিস, ভিভেক থ্রি-পিস, সালোয়ার-কামিজ, শেরওয়ানি, লেহেঙ্গা, গারারা শারারা, কুর্তা, শাল,মহিলাদের কটি এবং নারী-পুরুষ ও বাচ্চাদের কালেকশন ও লেহেঙ্গা। কোন কোন ক্রেতা আসছেন পছন্দ করছেন, কিনে নিচ্ছেন পছন্দমত পোশাক। যদিও এবার গতবছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি।
জ্যাকসন হাইটসে আসা ক্রেতা ফাহমিদা চৌধুরী লুনা জানান, ঈদের ২-৩ দিন আগে মার্কেটে প্রচুর ভিড় হয়। তাই আগেভাগে চলে এসেছি। পছন্দের পোশাক কিনতে। তবে দাম খুব বেশি মনে হচ্ছে।

জ্যামাইকার একজন ক্রেতা লিনা আহমেদ জানান,নিজের ও পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। মনে হয় না একদিনেই হয়ে যাবে। লাগাম ছাড়া দাম।
একাধিক ক্রেতা বলেছেন, নিউইয়র্কে ঈদকে সামনে রেখে শুধু পোশাকের দোকানে নয়, গহনার দোকানেও ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। পোশাক ও গহনার দোকানের পাশাপাশি অনেকেই বিভিন্ন শপিংমলে গিয়ে কেনাকাটা করছেন। এ ছাড়া ঈদের দিনে রান্নার জন্য সেমাই, পায়েস রান্নার উপকরণ, মাছ, মাংস, পোলাওর চাল, মসলাপাতি, দুধ, ডিমসহ প্রয়োজনীয় সব গ্রোসারি পণ্য কিনছেন।
একজন দোকানদার বলেন, ক্রেতারা আমাদের কাছে আসছেন, কেনাকাটা করছেন। তারা সন্তানদের পাশাপাশি নিজেদের জন্যও কিনছেন। বিক্রিতে আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি।
জ্যাকসন হাইটসের এক জুয়েলারির মালিক জানান,মানুষ আসছেন এবং কেনাকাটা করছেন। আমরা কাস্টমারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। সব মিলিয়ে বলব, ঈদ-বাজার ভালো। আশা করা হচ্ছে, ঈদের আগে আরও ভালো বিক্রি হবে।
প্রতি গ্রাম স্বর্ণের গহনা বিক্রি হচ্ছে ৭২ ডলার। স্বর্ণের দাম এখন বেশি। এদিকে সেখানে ঈদকে সামনে রেখে নতুন নতুন ডিজাইনের চুড়ি, চেইন, গলার হার, কানের দুল, আংটি, টিকলিসহ বিভিন্ন ধরনের গহনা বিক্রি হচ্ছে।


