সন্ধান২৪.কম ডেস্ক ঃ ২৬শে নভেম্বর ২০২২,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন করার নামে একটি বিভ্রান্তিমুলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন। তথাকথিত কিছুসংখ্যক ব্যক্তি কোন রকমের ঘোষণাবিহীন নিজেরা ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় Alumni Association New York নামে একটি কমেটি করে জন প্রতি এক শত ডালার চাঁদার বিনিময়ে অনূর্ধ্ব একশত স্বঘোষিত ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদ্র জড়ো করে, প্রকৃত ঢাবিয়ান শিল্পী, সাহিত্যিক, লেখকদের উপেক্ষা করে বাণিজ্যিকভাবে স্পন্সরশিপ্র সুযোগ নিয়ে যে অনুষ্ঠানটি তারা দেখালেন, সেটা মোটেও কোনো অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের চরিত্রের সাথে মানানসই ছিলনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আনুমানিক আড়াইশ মানুষের অনূর্ধ্ব এক তৃতীংশ হয়তো ছিলেন ঢাবিয়ান, বাকিরা ছিলেন সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিল্পী, কলাকুশলীর, পেশাদার কারিগরি সহায়তাদানকারী, তাদের পরিবারের সদস্যমণ্ডলী, স্পন্সরকারী ব্যক্তিগণ এবং তাদের সাথে আগত সঙ্গীসাথী। এই অনুষ্ঠানের একটি নিম্নমানের একটি সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান বলা যেতে পরে।

আমার মতে- অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হবে প্রাকতন ছাত্র ছাত্রিদের স্মৃতিচারণ মূলক ,মানে স্টেজে উঠে মাইক সঙ্গে অলামনাসগণ তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করবেন । কিন্তু আমরা কি দেখলাম?
আমের গল্প থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘন্টা অপ্রাসঙ্গিক বকবকানি। আমরা কি $১০০ ডলার দিয়ে আপনাদের ব্যক্তিগত গলাবাজি শুনতে গিয়েছি ?

কর্মকর্তা হিসেবে যে সব ব্যক্তিদের বেশভূষা পরে ঘুরতে দেখা গেল, তারা সবাই কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় থেকে পাশ করে বেরিয়েছেন? পড়াশোনা করেছেন? আমারতো মনে হয় এদের অনেকেই পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই যাননি।
অনুষ্ঠানের শুরু দিকে ভুল রবিন্দ্রসংগীত দিয়ে শুরু করা হলো ,মানে ব্যবস্থাপকের আত্মীয় হবে হয়তো, নিম্নমানের সৌখিন গায়িকা, হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।
ফ্লায়ারে চ্যান্সেলর-এর ইংরেজি বানানো তারা লিখেছেন Chencellor, যা শুধু ভাষাজ্ঞানের অভাব নয়, আমন্ত্রিত অতিথিসহ গোটা বিশ্ববিদ্যালয়রে শিক্ষার মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ব্যবস্থাপনা ছিল আনাড়িপনার ছাপ। একশ ডলার দিয়ে মানুষ রেজিস্ট্রেশন করে প্রবেশ করেছে, অথচ তাদের জন্য হোটেলের পার্কিং এর কোন কুপন দেওয়া হয়নি।
আয়োজকদের জন্য সবচেয়ে লজ্জাস্কর বিষয় হলো, বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট অতিথি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তার বক্তৃতায় নিউ ইয়র্কের নেতৃবৃন্দের সমালোচনা করেছেন। তিনি নিউ ইয়র্ক ত্যাগের আগে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে গেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আজীবন সদস্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্তদের ছাড়া কোথাও কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েসনের নাম ব্যবহার করা যাবেনা।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখসহ বাংলাদেশের সকল কর্মকাণ্ডে যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা হয়, এই অনুষ্ঠানের কোথাও বঙ্গবন্ধুক্ সিমরণ করা হয়নি, তাঁর ছবিও সন্নিবেশ করা হয়নি।
অনুষ্ঠানের তীব্র সমালোচনা করা নাসির আলী খান পলের এই লেখা ছাড়াও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে নানা রকম অভিযোগ উঠেছে । এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে অনেকেই নাকি আপত্তি করেছেন। একটি সুত্র থেকে জানা যায, ১৯৭১এর স্বাধীনতা বিরোধী চক্ররা নাকি আগে থেকে বঙ্গবন্ধুকে অনুষ্ঠানের বাহিরে রাখতে পরিকল্পনা করেই মাঠে নেমেছিল । এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান স্থলে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের মাঝে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়।
নাসির আলী খান পলের ফেসবুক থেকে সংগৃহিত।


