সন্ধান২৪.কম: নিউইয়র্কে গত ১৫, ১৬ ও ১৭ মে থেকে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা-২০২৬’ হয়ে গেল। প্রকাশক ও লেখকদের আশা ছিল অন্তত ক্রেতা-দশনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে বইমেলা। বিক্রি হবে প্রচুর বই; কিন্তু প্রত্যাশা অনুয়ায়ী বইমেলায় বই ক্রেতার সংখ্যা ছিল প্রায় শুণ্যের কোঠায় । অধিকাংশ প্রকাশক ও লেখকরা বই বিক্রিতে ‘চরম হতাশা’প্রকাশ করেছেন।

মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অনেক স্টলে বিক্রেতারা ক্রেতার অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন।আবার কিছু স্টলের মালিক স্টল ফাকা রেখে অন্য জায়গায় আড্ডায় মেতেছেন। মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশকরা জানিয়েছেন, বিক্রির চিত্র এবার খুবই হতাশাজনক। শুক্রবার ও শনিবারে দুটি প্রকশনার মাত্র একটি করে বই বিক্রী হয়েছে বলে তারা জানান। ভবিষ্যতে এই রকম করুণ অবস্থা থাকলে,তারা স্টল দেবেন কি না তা ভাবতে হবে বলে জানান একজন প্রকাশক।
একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বলেন,কোন না কোন ভাবে বই মেলার সাথে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ও ১০টি সংগঠন যুক্ত ছিল। আয়োজকদের অন্তত দুটি করে বই কেনার জন্য বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত ছিল। এ ছাড়াও আগত অতিথিদের বই কেনার জন্য উৎসাহী করার দরকার ছিল।
কিন্ত আয়োজকদের পক্ষ থেকে সেরকম কোনো উদ্যোগ-পরিবেশও তৈরি করা হয়নি। এই পরিবেশটি যদি থাকত, তা হলে বইমেলা খুব চমৎকার হতো, সেটি হয়নি। বিভিন্ন কারণের সঙ্গে এ কারণও যুক্ত আছে বলে তিনি মনে করেন।
একজন লেখক বলেন, এককভাবে ও পরিবারভিত্তিক মানুষ মেলায় ঘুরতে আসে। বই দেখে। ঘুরতে আসে কিন্তু বই কেনার যে স্রোত সেটার প্রচুর ঘাটতি লক্ষ্য করছি।
একজন সাংবাদিক বলেন, বই যে কম বিক্রি হয়েছে, সেটি অমূলক নয়। প্রতিদিনের অবজারভেশনে যেটা দেখলাম বইমেলার বিক্রি সত্যিকার অর্থে কম। দুটি বড় কারণ। একটি হলো, বই মেলায় বঙ্গবন্ধুর নাম ও রাজনৈতিক চেতনা ও আদর্শ। আরেকটি কারণ হলো, নতুন অপরিচিত জায়গার ও গাড়ি পার্কি করার সমস্যা।
বই মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে যে ভাবে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে,তাতে করে ‘বই মেলা‘র গুরত্ব হারিয়ে এটি একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিনত হয় কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন একজন বই প্রেমিক।
তার মতে, অন্য অনুষ্ঠানের ভিড়ে বই মেলার গরিমা ও লক্ষ্য যাতে হারিয়ে না যায়, তা নিয়ে আয়োজকদের সচেতন থাকতে হবে।
এবার বই মেলায় প্রসংশিত হয়েছে ডঃ অভিজিৎ রায়ের স্মৃতিকে চির অম্লান করার প্রয়াসে ‘বিণাপাণী বুক স্টল’। মুক্তমনা, যুক্তিবাদী লেখক ডঃ অভিজিৎ রায়ের ব্যতিক্রমী এই স্টলে অভিজিৎতের বই ছাড়াও তসলিমা নাসরিনের বই ছিল। গোপাল স্যানালের দেয়া এই স্টলে কিছু বই পাঠকদের কিনতে দেখা গিয়েছে ।
ড. নুরন নবী,মনজুর কাদের,ফকির ইলিয়াস, ইসতিয়াক আহমেদ রুপুর বই পাঠকদের কিনতে দেয়া গিয়েছে। তবে অনেক লেখককে তাদের প্রিয়জনদের কাছে শুভেচ্ছা বই উপহার দিতে দেখা যায়।
বইমেলার ১৯ টি বইয়ের স্টল ছিল সময় প্রকাশন, জয় বাংলা বুক স্টল, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ স্টল, জয় বাংলা পাঠাগার, মুক্তমনা প্রকাশন, আমরা শিশুদের সঙ্গী.বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব যুক্তরাষ্ট্র,কালিক প্রকাশন,বই বিনিময়,কবি দিলওয়ার ফাউন্ডেশন, বিদ্যাপ্রকাশ, বাতিঘর,নালন্দা প্রকাশনী,অন্বয় প্রকাশ,বিণাপাণী বুক স্টল, শব্দগুচ্ছ ও অনুস্বরের।
একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন-যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত দ্বিতীয়বারের এই বই মেলা নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড হয়। বই মেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মার্কিন কবি ও অনুবাদক ক্যারোলিন রাইট। স্বাগত বক্তব্য দেন আহ্বায়ক ড. নুরন নবী।