-সনজীবন কুমার
দেবী দুর্গা বাঙালি ঘরের বউ বলে বছরে নিয়ম করে এক বার বাপের বাড়ি আসে। মাত্র ৬ থেকে ৭ দিনের জন্য। কিন্ত নিউইয়র্কে অন্য কথা,এখানে দূর্গার সুখ আর সুখ।
কারন প্রায় ১৫ থেকে ২৪ দিন দুর্গা বাপের বাড়ি থাকে। খায়-দায় টাইমস স্কয়ার,জ্যাকসন হাইটসে খায়-দায় আর ঘুড়ে বেড়ায়।
নিউইয়র্কে ১০ অক্টোবর থেকে দুর্গা পূজা শুরু হয়েছে। শেষ হলো গতকাল ১ নভেম্বরে। স্বামীর বাড়ি কৈলাস থেকে এসে সব মিলে দূর্গা ২৪ দিন বাপের বাড়ি থাকলো।

এতো গেল সুখের কথা। উল্টো দিকে কষ্টের কথাও আছে। এই কয় দিনে বার বার বিসর্জন আর আগমনের জন্য দুর্গাকে লাগাতার হীম জলে ডুবতে হয়েছে। দুগ্গার কি ঠান্ডা লেগেছে ? জানি না, ফ্লু-শর্ট তো নেয়া হয় নাই।
স্বামীর বাড়ি কৈলাস থেকে বাপের বাড়ি বার বার যেতে আসতে, নিজের আর সন্তানদের কাপড়-চোপড় গোছানো,লাগেজ ঠিকঠাক রাখা কম হ্যাপা পোহােেত হয় নাই। দুর্গাকে অনেক ঝুট-ঝামেলা সহ্য করতে হয়েছে। কৈলাস তো নিউইয়র্কের কাছে নয়- অনেক দূরের পথ। কেন সব মা-দুগ্গাদের সোয়ামির ঘর তাঁদের মায়ের বাড়ির কাছেই হয় না ? কেন মাঠের তালগাছটা পিছলে ফেলে, সামনে পা বাড়ালেই বাপের বাড়ির উঠোন হয় না ?
অন্যদিকে ২৪ দিনের জন্য মা দূর্গা নিউইয়র্কে বাপের বাড়ি। এর জন্য কৈলাসে শ্মশানে মশানে থাকা ভোলেভালা ভোলা মহেশ্বরের কি হাল হকিকত হবে সে কথা ভেবে ভেবেও দুর্গা আকুল। ২৪ দিনে মহাদেবের গাঁজা টানার যে রেট বেড়েছে, দুর্গা তা নিশ্চিত।
বিজয়া দশমী শেষে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন দুর্গা।
বাংলার ঘড়ে ঘড়ে স্বামীর বাড়িতে উমাদের জন্য কত অত্যাচার-নির্যাতন অপেক্ষা করে থাকে। তা ভেভে মন্ডপে মন্ডপে বিষাদের সুর ভেসে উঠার কথা।
ভক্তদের মনে দু:খবোধ জন্ম নেয়ার কথা। চোখে নেমে আসার কথা বিদায়ের জল। কিন্ত না,তার বদলে চলে হৈ-হুল্লোড় আর উদ্দামতা। দেবীর চলে যাওয়ার সকল দু:খ-কষ্ট ধামাইল নৃত্য আর ব্যান্ডের ধুমধারাক্কায় চাপা পড়ে যায়।
সম্মানিত পাঠক, আর একটি বিষয় লক্ষ্য করেছেন ? পশ্চিমবঙ্গের চোরবাজার পূজা প্যান্ডেলে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিউইয়র্কের কোন পুজা কমিটি বা হিন্দু নেতাদের হা-হুতাশ করতে দেখেছেন ? দুর্গা পূজার কোন মন্ডপে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে কোন শোক প্রকাশ করা হয়েছে ? না হয় নাই। কেন ? কারণ এই ঘটনা ঘটেছে বিজেপির সরকারের ব্যর্থতায় তাই হয় নাই। কিন্ত এই ঘটনা যদি পশ্চীমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার বা মমতার সময় অথবা বাংলাদেশে হতো, তা হলে নিউইয়র্কে নেতা-কমিটির চোখের জলের বন্যা বয়ে যেত।
দূর্গা মর্তে এলে আমরা আনন্দে হাসি। বিদায়ের বেদনায় মেকি কাঁদি। কিন্ত কেউ দুখিনী দুগ্গার দু:খ বিনাশে ভূমিকা রাখি না।