এস.কে. সরকার
ডাক্তাররা বলেন,শষা পাকস্থলিতে গিয়ে নিজে হজম হয় না, কিন্ত অন্য খাদ্য হজম করতে সাহায্য করে। আমাদের নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের হয়েছে সেই অবস্থা। এরা নিজে হজম হবেন না কিন্ত অন্যদের ছবক দেন। কোন সংগঠন ভেঙ্গে একাধিক হলে এরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে প্রশ্ন করে এবং সংবাদ লেখে। অথচ নিউইয়র্কে প্রেসক্লাব সাত ভাগে ভাগ হলে এরা আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখেন না। অথচ সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ বলা হয়।
নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের ৭ টি সংগঠন। একটি ভেঙ্গে ৭ টি হয়েছে। সদস্য সংখ্যা নাকি দুইশতাধিক। অথচ কোন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ভেঙ্গে গেলে এরা আদা-নুন খেয়ে নিউজ করেন।
৭ টি সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদককে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে,নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের কয়টি প্রেসক্লাব আছে ? আমি নিশ্চিত, কেউ চট্ করে এর উত্তর দিতে পারবে না। অনেক ভেবে-চিন্তে,হাতের আঙ্গুলে গুনে তবে হয়তো বলতে পারবেন।
কাউকে যদি বলা হয়,আপনার সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কত, কার্যকরী কমিটিতে কয়জন ও কে কে আছেন। এরও উত্তর সাধারণ সদস্যরা তো দূরের কথা ,শীর্ষ নেতারাও দিতে পারবেন না।
প্রেসক্লাবের ভোট আসলে দেখা যায়, যারা বিভিন্ন পদের প্রার্থী হন,তারা তাদের কমিটির অনেককে চিনেন না। অন্য ষ্টেটে আছেন, কোন দিন দেখেও নাই। ফোন নম্বরও নাই। হয়ত এমন সদস্যও কমিটিতে আছেন,যিনি কোন প্রাগঐতিহাসিক কালে সাংবাদিকতা ছেড়ে দিয়েছেন তবু তিনি ভোটার।
‘বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচি’ প্রবাদের মত প্রেসক্লাবের অবস্থা। কমিটিতে প্রকৃত সাংবাদিকের চেয়ে ‘হারিয়ে যাওয়া’ ‘ভূয়া’ ও ‘অবসর নেয়া’ সাংবাদিকের সংখ্যাই বেশী। বাগানে যেমন ফুলের চেয়ে আগাছা বেশী হলে,নষ্ট কীটে ভরে যায়, এই প্রেসক্লাবগুলোতে নষ্টকীটে ছয়লাব হয়েছে। যার জন্য নিউইয়র্কে অপসাংবাদিকতার চাষ-বাস বেশী হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ ধারণার জন্ম নিচ্ছে। সাংবাদিকরা সমাজের প্রতিপক্ষ হয়ে যাচ্ছে।
‘সারাদিন অন্যপেশায় কাজ শেষে সন্ধ্যাবেলা নিজকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। অথচ পেশাদার সাংবাদিক আছেন হাতে গোনা কয়েকজন’-ঠিকানা রিপোর্ট।
নিউইয়র্কে এখন বহু “ক্যামেরা সাংবাদিক”,”ভিডিও সাংবাদিক”। তাদের অনেকেই ক্যাপসান ছাড়া ছবি-ভিডিও পোস্ট করেন ।কিন্তু ক্যাপসানবিহীন ছবি-ভিডিও দেখে মানুষ জানবে কি করে ঘটনাটা কি?
নিউইয়র্কে বহুভাগে ভাগ হওয়া প্রেসক্লাব নিয়ে কমিউনিটিতে ব্যাপক ঘৃণার জন্ম নিয়েছে। এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও লেখালেখি চলছে। সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে ফেসবুকের কিছু মন্তব্য তুলে দেয়া হলো:
প্রেসক্লাব নিয়ে হাবিব রহমান সামাজিক মাধ্যমে বলেন, “নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের দোকান এখন ৭টা।…পেশাগত কোন শিক্ষা নাই। নিজের নামটা উচ্চারণ করতে পারে না, একটা সাইনবোর্ড লাগিয়ে এরাই বড্ড সাংবাদিক।”
সাইয়িম মোস্তাকিম গণমাধ্যমে বলেন- ‘শুধু তাই নয় সাংবাদিক শব্দটাও ঠিকমতো বলতে পারে না. একটা ডিএসএলআর কিনে কাঁধে ঝুলিয়ে হাঁটে. ফোটোগ্রাফিতেও কোনো আনুষ্টানিক শিক্ষা নেই.।’
খোরশেদ আলম বলেন-‘এরা ১০০ টাকার সাংবাদিক।’
বদরুল ইসলাম বাবলার মন্তব্য,‘এবং এদের অনেকেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির অনুষ্ঠানে নেমন্তন পান আর প্রথম সারিতে বসেন।’
মো;সোহেল হোসাইন,‘এদের আবার ২ টা লাইন নির্ভুলভাবে লিখারও মুরোদ নাই … ফটোসাংবাদিক না বলে এদেরকে “ফুটো”সাংবাদিক বলাই উচিত !’
গিয়াস উদ্দিন আউয়াল মন্তব্য করেন,‘দেশের কাদাছোড়াছোড়ির বিস্তার দেখছি বিদেশেও পেয়ে বসেছে। নিউইয়র্ক শহরে ৫টি প্রেসক্লাবের অস্তিত্বের কথা শুনে অবাক লাগছে। আপনারা যাঁরা সিনিয়র-বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আছেন, তাঁরা ৫টিকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে পারলে হবে কাজের কাজ। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার সাংগঠনিক ভিত্তিও হবে সুদৃঢ়।’
