নিউইর্য়কে বাাঙালি কমিউনিটিতে করোনাভাইরাস বাড়ছে যে কারণে

নিজস্ব প্রতিবেদন ঃ  নিউইর্য়কে বাাঙালি কমিউনিটিতে মারাত্মক আকারে করোনাভাইরাস বাড়ছে । প্রতিদিন যে হারে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে আর কিছুদিনের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। কমিউনিটির অনেককে হারাতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউইর্য়কে বাঙালি কমিউনিটিতে স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতা, অশিক্ষা, গোয়ার্তৃমি, করোনা উপসর্গ নিয়ে কাজ করা, মাস্ক ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করার কারণেই করোনা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এছাড়াও  রাজনৈতিক-সামাজিক, আঞ্চলিক ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য রোগের বিস্তার হচ্ছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

কিন্তু এর পরও কিছু মানুষ কোন কাজ না থাকলেও  বাইরে বের হবেই। আবার অনেকেই হয়তো কাজের জন্য কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হন । কিন্ত  তারা কোন নিয়ম মানছে না,  বিপদের কোন তোয়াক্কাই করেন না। এতে তারা কেবলি নিজেরাই রোগের ঝুঁকিতে থাকছে না বরং তারা অন্যান্য মানুষের মধ্যে সিমুলাইটিস ছড়িয়ে দেওয়ার বাহক হিসেবেও কাজ করছে।

নিউইয়র্কে কোভিড-১৯ এর ২য় ঢেউ এসে পড়েছে সবার দরজায়। শহর আবারো ভেসে যাচ্ছে  ভয়ানক মৃত্যুবাহী রোগ কোভিডে। বাঙালী কমিউনিটিতে প্রতিদিন আমাদের নিকটজনেরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে ।

সার্বিক ভাবে কারন হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন- ১। ঘরে ঘরে দাওয়াত খাওয়া ২। মাস্ক ব্যবহার না করা ৩। শারীরিক দূরত্ব রক্ষা না করা ৪। কোয়ারেন্টিনে অবহেলা  ৫। স্যানিটাইজেশনের নিয়মগুলো অনুসরণ না করা যেমন বাজার এনে আলাদা রাখা, হাতে গ্লাভস পরা, ঘনঘন হাত ধোয়া। বাজার শব্জি ধুয়ে রাখা ৬।এসিমটোমেটিক বা নীরব কোভিড, যা বুঝতে না পেরে মানুষ নিজেকে সুস্থ ভেবে যথেচ্ছ ঘোরাঘুরি করছে এবং ভয়ানক ভাবে ছড়াচ্ছে, ৭। নিজে কোভিড-১৯ আক্রান্ত জেনেও পাবলিক প্লেসে ঘুরে ঘুরে রোগ ছড়ানো ৮। যাদের শরীরে অন্যান্য মারাত্মক রোগের পূর্বসূত্র রয়েছে তাদের অসচেতন চলাফেরা ৯। পরিবারের অন্য সদস্যদের অসচেতন এবং বিবেকহীন আচরন। ১০।  মানুষের “অসচেতনতা” অল্প শিক্ষা ও অ্শিক্ষা এবং ১১। করোনার উপসর্গ নিয়ে  আয়ের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ।

নাম না প্রকাশ করে একজন বাঙালি ডাক্তার বলেন, সবাই সাবধানে থাকবেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়াই উত্তম। ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতিমধ্যেই ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে – যার ফলে এটি আরো বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। প্রতি তিন দিনে যদি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয় তাহলে মে মাস নাগাদ কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ১০ কোটি মানুষ এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।

কোভিড ও পোস্ট কোভিড সিন্ড্রোম নিয়ে একজন তার  অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে   শেয়ার করেছিল  এই ভেবে যে এতেও যদি কমিউনিটির মূর্খতা আর আহাম্মকি কমে। মানুষের জীবনের প্রতি  বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়। কিন্ত তিনি পরে ক্ষোভের সাথে জানান, সেই পোষ্টের জন্য তাকে নাকি অনেকেই তিরস্কার ও মস্করা করেছেন।

তাহলে এর হাত থেকে বাঁচতে কোনো উপায় নেই ? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন , প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে করোনায় অসুস্থ ব্যক্তির থেকে ৮ ফিটের দূরত্ব বজায় রাখতে হবে । মুলত সুস্থ মানুষের চোখ, নাক ও মুখ দিয়ে করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে তাই এই অঙ্গগুলি হাতের স্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে । হাত প্রতিনিয়ত অ্যালকোহল স্যানিটাইসার দিয়ে পরিস্কার রাখতে হবে । 

ট্রেনে সংক্রমণ ছড়ানোর হার অনেকটাই নির্ভর করছে যাত্রীদের সতর্কতার উপর। সাউথহ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের মতে, ট্রেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবহার, যাত্রীদের কমপক্ষে ৩ মিটারের দূরত্ব ও যাত্রার সময়, এসবের উপরই নির্ভর করে করোনা আক্রান্তের থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা। ‍কিন্ত বাঙালিরা এসব মানছেন বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে এই রোগের বিস্তার কমানো যেতে পারে। এর জন্য সবাইকে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে এবং ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া যাবে না। আর এভাবেই মানুষকে “সামাজিকভাবে একে অন্যের থেকে দূরত্ব” বজায় রাখতে হবে। সর্বোপরি, স্বাস্থ্যসেবা- পেশাদা্ররা মানুষকে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে, যত বেশি সম্ভব ঘরে সময় কাটাতে এবং একে অন্যের থেকে দূরত্ব বজার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। মানুষজন যদি তাদের ঘর থেকে কম বের হয় এবং একে অন্যের সাথে মেলামেশা যথেষ্ট কমিয়ে দেয় তাহলে ভাইরাস সংক্রমনের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।

 

 

 

 

 

 

Exit mobile version