নিউইর্য়কে শীতে সিনিয়র সিটিজেনরা কাটাচ্ছে নিঃসঙ্গ জীবন

সন্ধান২৪.কমঃ প্রচন্ড শীত,তুষারপাত ও করোনাভাইরাসের কারনে নিউইর্য়কের প্রবীনদের জীবনে নেমে এসেছে দুঃসহ যন্ত্রনা। ঘরের ভিতরেই তাদেরকে প্রায় বন্দী অবস্থায় জীবন-যাপন করতে হচ্ছে।

 

এমনিতেই আমেরিকার প্রবীণেরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রায় একা হয়ে যান। ছেলে-মেয়েদের সাথে থাকলেও প্রচন্ড ব্যস্ততার জন্য তারা দূরে সরে যায়। দেখা এবং কথা হয় খুব কম। বাংলাদেশী প্রবীনরা এমন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত নন বলে তাদেকে পোহাতে হচ্ছে নিঃসঙ্গতা। যার ফলে তাদের জীবনে নেমে আসছে সীমাহীন হতাশা ও যন্ত্রনা।
এমনিতে করোনার ঝুঁকি বয়স্কদের বেশী। যার কারণে তারা ঘর থেকে বাহিরে যেতে সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকেন। তার উপর প্রচন্ড শীতে তাদেরকে ঘরে থাকতে বাধ্য হতে হচ্ছে। নিউইয়র্কে এমনি তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশী সিনিয়র সিটিজেনদের।
তুষারপাত ও প্রচন্ড ঠান্ডা না থাকলে সিনিয়র সিটিজেনরা নিজেদের মধ্যে ছোট দলে পার্কে বা খোলা মাঠে ঘুরে বেড়ান। প্িরচিতজনদের সাথে পার্কে বসে আড্ডা দেন। নানা রকম গল্পে মেতে থাকেন ঘন্টার পর ঘন্টা। নিজেদের সুখ-দুঃখের গল্প, জীবনের গল্প মনের খেদ ও হতাশা দূর করেন। কখনো কখনো বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে বসে চলে চা-কফি সিঙ্গারার আড্ডা। কিন্তু প্রচন্ড হাড় হীম করা ঠান্ডা এবং করোনাভাইরাস কারণে তাঁদের এই চিরচেনা জীবনে ছন্দ পতন ঘটছে। কারণে নিঃসঙ্গ একাকী জীবন যেন জেলখানার জীবন হয়ে ধরা দিয়েছে তাঁদের কাছে।
বাংলাদেশী এক প্রবীন বলেন, জেলখানায় তবুও অনেকের সাথে কথা বলা যায়, কিন্ত এখানে কথা বলাও কেউ থাকে না। সে দিক দিয়ে নিউইর্য়কে নিঃসঙ্গ জীবনের চেয়ে জেলখানা অনেক ভাল।

এক প্রবীন দম্পত্তি বলেন,মেয়ে ও জামাই কাজে গেলে তাদেরকে একাই থাকতে হয়। সময় কাটানোর জন্য শুধু একঘেঁয়ে ভাবে টিভি দেখতে হয়। শীতের কারণে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাও দিতে পারছেন না। যেতে পারছেন না আত্মীয়-স্বজনদের কাছে। ঘরে বন্দী হয়ে সবসময় দমবন্ধ অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। এমন মুহূর্তে তাঁদের নিজেকে বড় অসহায় আর অপ্রয়োজনীয় মনে হয় বলে দম্পত্তি জানান।
জ্যাকসন হাইটসে বাস করেন এক মহিলার কিছুদিন আগে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এখন বাসায় তাকে ছোট দুই নাতিকে নিয়ে দিন কাটাতে হয়। কিন্তু নাতিরা স্কুলে ও মেয়ে-জামাই কাজে গেলে বাসায় একাই থাকতে হয়। টিভি ও ফোন ব্যবহার করতে না জানা এই বৃদ্ধাকে এভাবেই নিঃসঙ্গ একাকী জীবন কাটাতে হচ্ছে।
সীমাহীন শীতে বাসার বাহিরে বের হতে না পারায় অনেকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে একই জায়গায় একই ঘরে থাকতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন। এভাবেই দীর্ঘ সময় সিনিয়র সিটিজেনদের মানসিকতার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাঁদের গ্রাস করছে বিষণ্নতা ও অস্থিরতা।

Exit mobile version