সন্ধান২৪.কমঃ নিউইয়র্কে রাজনৈতিক দলগুলোতে তৃণমূল থেকে শুরু করে দলের উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল,গ্রুপিং ও দলাদলি দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার জেরে দলগুলোর মধ্যে বাড়ছে দ্বন্দ্ব,অবিশ্বাস ও দুরত্ব। যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি কোন দলই এই বিভক্তির অভিসাপ থেকে মুক্ত নয়।




আজকালের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে,সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলের অভ্যন্তরে নেতাকর্মীদের ঐক্য ও আস্থার সংকট, যোগ্য নেতৃত্বের অভাব এবং কেন্দ্রের উদাসিনতাই এর মূল কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে এসে ঠেকেছে। এই কোন্দল ও দ্বন্দ্ব মূলতঃ সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠে।
কারণ ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। আর এই কমিটিতে কে থাকবেন, কে সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক হবেন আর কাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে সেই নিয়ে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়। শুরু হয় দল-উপদল, কোন্দল ও গ্রুপিং। আর এইসব কাঁদা ছোড়াছুড়ি বিভক্তিতে জড়িয়ে পরে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন শ্রমিক লীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। আর বিভাজন এত মারাত্মক আকার ধারন করে যে,
কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপেও তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ‘মূল আওয়ামী লীগ’,‘বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ’ ও ‘পদবঞ্চিত আওয়ামী লীগ’এ বিভক্ত হয়ে আছে। এই বিভক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ড. সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুস ছামাদ আজাদ, ড. প্রদীপ রঞ্চন কর,আব্দুর রহিম বাদশা,চন্দন দত্ত,বখতিয়ার হোসেন,শরাফত আলী,হাজী এনাম, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, মহিউদ্দিন দেওয়ান,আইরীন পারভিন, জাকারিয়া চৌধুরী,ডাক্তার মাসুদুল হাসানের মত শীর্ষ স্থানীয় নেতারা।
আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল মূলত নেতায় নেতায় ব্যক্তিগত স্বার্থে। গঠনতন্ত্রে বিধান না থাকলেও এক পক্ষ বহিষ্কার করছে অন্য পক্ষকে। কেউ কাউকে মানছে না।
অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির অবস্থা আরও সঙ্গীন। গত কয়েক বছর ধরে বিএনপি কোন কমিটি করা সম্ভব হয় নাই। যার জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা অভিভাবকহীন এতিমের মত দীশাহীন হয়ে পড়েছে। দ্বন্দ্ব, বিভেদ আর দল-উপদলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এখন কত ভাবে বিভক্ত তা তারেক রহমান তো দূরের কথা,যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীরাও বলতে পারে না।
আর বড় ভাইদের সাথে এই কাউয়া-ক্যাচালে যুক্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দল,ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের নেতা-কর্মীরা। যার ফলে সব জায়গায় আন্দোলন-সংগ্রামের চেয়ে গ্রুপিং হচ্ছে বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। অনেক নেতা ঢাকা থেকে কমিটি গঠন করার কথা বলে উড়ে আসে নিউইয়র্কে । তারপর এখানকার নেতা-কর্মীদের পকেটের পয়সা দিয়ে লাগেজ ভর্তি করে সওদা করে নিয়ে যান,কিন্ত যে লাউ সে কদুই থেকে যায়। কাজের কাজ কিছুই হয় না। এুসব কারণে নেতাকর্মীরা অনেকেই দলথেকে দূরে সরে গেছে। অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পরেছে। নেতাদের এমন দায়িত্ব-জ্ঞানহীন কর্মকান্ডে নিউইয়র্কের অনেকেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এই নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে দলের কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের হতাশ নেতা-কর্মীরা। আর কেন্দ্রের নানা দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিএনপিও নানা দলে বিভক্ত হয়ে পরেছে। এই বিভক্তিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডা,দেলোয়ার হোসেন,গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান জিল্লু, শরাফত হোসেন বাবু, মনজুর রহমান মিলটন, জসিম উদ্দিন ভূইয়া, আনোয়ারুল হক,পারভেজ সাজ্জাদ,আব্দুল লতিফ স¤্রাট,শরীফ লস্কর,সেলিম রেজা,আতিক উল্লা, আবু সাঈদ,জাকির চৌধুরী, আকতার হোসেন বাদল। বিএপির দলের ভেতর এতোটাই বিভেদ ও বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে যে শান্তিপূর্ণভাবে একটি বৈঠকও করতে পারেন না অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ড চোখে না পড়লেও সম্প্রতি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র জাতিয় পার্টি। গত কয়েক দিন আগে আব্দুর নূর বড় ভূঁইয়া ও আসেফ বারী টুটুলের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র জাতিয় পার্টির আহবায়ক কমিটি গঠন হলেও, সেই কমিটিকে ‘থোরাই কেয়ার’ করে দিব্যি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আব্দুর রহমান ও আবু তালেব চান্দুর নেতৃত্বে জাতিয় পার্টির আগের কমিটি। দুই ভাগে বিভক্ত জাতিয় পার্টির দ্বন্দ্ব সমাধানের পথ খুঁজে না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত দলের হাইকমান্ড। তাদের বিরোধ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্র। বারবার নির্দেশনার পরেও বিভেদের রাজনীতি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে জাতিয় পার্টি রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিউইয়র্কে বিভিন্ন দলের কোন্দল, দ্বন্দ্ব,বিভক্তি দেখে কমিনিটির বিশিষ্ট্যজনরা প্রশ্ন করতে শুরু করেছে-নেতা-কর্মীরা দলের নীতি-আদর্শ দল করে না, ব্যক্তি স্বার্থে দল করে? এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ কাঁদা ছোড়াছুড়ি,বিভেদ ভাল চোখে দেখছে না।


