সন্ধান২৪.কম : নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মুদি, কাপড়-চোপড়, দৈনন্দিন জীবনের তৈজসপত্র কিনলেই দেয়া হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।পলিথিন মানবস্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হলেও কেউ এই নিয়ম মানছে না।
পলিথিন ও প্লাস্টিক আধুনিক জীবনের বহুল ব্যবহৃত উপাদান হলেও, পরিবেশের জন্য তা ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। পলিথিন থেকে নির্গত বিষাক্ত পদার্থ শিশুদের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। প্লাস্টিকের বস্তুটি মাটি ও পানিকে দূষিত করার ক্ষেত্রে খুবই ক্ষতিকর।
পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও কাঁচা বাজারগুলোতে ঢুকলে দেখা যায় পৃথক পলিথিনের ব্যবহার। পেপে, আলু, ঢেড়স, যেকোনো সবজি ক্রয় করলে ব্যবহৃত হচ্ছে আলাদা আলাদা পলিথিনের ব্যাগ। এদিকে পলিথিন মানবস্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হলেও দিন দিন পলিথিনের ব্যবহার যেন বাড়ছে। কিন্তু এটির ব্যবহার বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পলিথিন ব্যবহার বন্ধের ঘোষণা দিলেও ব্যবহার যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, ব্রঙ্কস, ব্রুকলিনের কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। কাঁচা বাজারের পণ্য কিনলেই পৃথক পৃথক পলিথিনের ব্যবহার। এটা নতুন কিছু নয়। জিনিস কিনলে সাথে পলিথিন ফ্রী।
জ্যাকসন হাইটসে খালি হাতে বাজার করতে এসেছিলেন মোফাজ্জল হোসেন। কাঁচা বাজারে ঢুকে দরদাম করে কিনলেন প্রয়োজনীয় পণ্য। কিনলেন আলু, পেঁপে, ঢেড়স, পেঁয়াজ, পটলসহ আরো অনেক কিছু। এক এক পণ্যের জন্য এক এক পলিথিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সন্ধান২৪.কমকে বলেন, খালি হাতে বাজারে আসছিলাম। বাজার করলাম ৫ রকম সবজি। তবে এক এক সবজিতে পৃথক পলিথিন দিয়েছে দোকানদার। বাসায় রাখতে যেমন সুবিধা হয় তেমনি পলিথিনে থাকলে সবজিগুলো ভালো থাকে। বাজারগুলো আলাদা আলাদা পলিথিনে দিলে ভালো থাকে।
আরেক ক্রেতা আকতার হোসেনের হাতে এক হালি ডিম সেটাও পলিথিনের প্যাকেটে। নিষিদ্ধ পলিথিনের এমনই ব্যবহার সবখানে লক্ষ্য করা যায়।
কাঁচামাল বিক্রেতা হায়দার। পৃথক পৃথক পলিথিন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সন্ধান২৪.কমকে বলেন, সবাই তো পলিথিন দিচ্ছে। তারা পলিথিনে ছাড়া কাঁচামাল, মাছ এসব নিতে চায় না। সবাই খালি হাতে আসে আর বাজার করে পলিথিনে নিয়ে যায়। তাই আমরা সব সময় পলিথিন রাখি। যেদিন পলিথিন থাকে না তারা মাল নিতে চায় না। তারা নিলে আমরা কি করবো। তারা প্যাকেট আনলে আমরাও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করে দিবো সহজ হিসাব। কারণ আমাদেরও পলিথিন কিনতে টাকা খরচ হচ্ছে।
এদিকে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সবর্ত্র ব্যাপক ব্যবহারে প্রতিদিন টনে টনে অপচনশীল নিষিদ্ধ পলিথিন পরিবেশে মিশছে। পরিবেশ বিষাক্ত ও নোংরা করার পাশাপাশি শহরের পরিবেশকে দুষিত করছে।
তবে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, পলিথিন ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা করছে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। মানুষ যদি পলিথিন বর্জন না করে তাহলে এটা কখনো বন্ধ হবে না। আগে আমাদের সচেতন হতে হবে তাহলে আমরা এটা বন্ধ করতো পারবো।
পলিথিনের বহুল ব্যবহার ও অব্যবস্থাপনার ফলে মাটি, পানি, এবং বায়ু দূষণের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় দেখা যায় বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ প্লস্টিক অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ পুনর্ব্যবহার হয় না এবং পরিশেষে তা সমুদ্রে পতিত হয় । এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার ৬৮৫ টন প্লাস্টিক সমুদ্রে যাচ্ছে।
পরিবেশের পাশাপাশি পলিথিন মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি এবং ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। পলিথিন প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক খাবার বা পানির সংস্পর্শে আসলে ধীরে ধীরে খাদ্যে মিশে যায়। এই রাসায়নিকগুলো মানবদেহে ক্যান্সার, হরমোনগত অসামঞ্জস্য, এবং প্রজনন সমস্যার কারণ হতে পারে। পলিথিন পোড়ালে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়। এগুলো শ্বাসনালীর প্রদাহ, অ্যাজমা, এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
