সন্ধান২৪.কমঃ রবিবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯-এর আসরে আজীবন সম্মাননা পদক গ্রহণ করলেন অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল রানা। আজীবন সম্মাননা পেলেন কিন্তু থেকে গেল আফসোস, আবার প্রাপ্তির আনন্দে চলে এলো চোখে জল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্যের পর পূর্বঘোষিত ২৬টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের এই আয়োজনে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯’ বিজয়ী শিল্পীদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। করোনার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিওর মাধ্যমে অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বাধন শুরু করেন।

মঞ্চে উঠেই পদক গ্রহণ করে উঁচু করে ধরেন সোহেল রানা। এ সময় তিনি বলেন, সম্মাননা পদক আমি বঙ্গবন্ধুর পদতলে উৎসর্গ করলাম। এই বঙ্গবন্ধূর জন্যই আমি অভিনয়ে। তিনি আমার রাজনীতির আদর্শ, আমার জীবনের আদর্শ।
পদক প্রদানের এবারের আসরে সোহেল রানার সঙ্গে কোহিনুর আক্তার সুচন্দাকেও আজীবন সম্মাননা জানানো হয়। কিন্তু কয়েক দিন আগে তার অস্ত্রোপচার হওয়ায় তিনি এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তার পক্ষে সুচন্দাকন্যা এ পদক গ্রহণ করেন।
আজীবন সম্মাননা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে না নিতে পারায় একটা আফসোস থেকেই গেল সোহেল রানার। মঞ্চে উঠেই অনুভূতি জানানোর বক্তব্যে মন খারাপের কথা জানান সোহেল রানা।
সোহেল রানা বলেন, ‘জীবনের শেষ সায়াহ্নে এসে সম্মাননা পেলাম। অনেক আশা করে এসেছিলাম বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত থেকে পদকটি নেব। কিন্তু করোনার কারণে তা আর হলো না। আমার হয়তো আর এমন মঞ্চে পুরস্কার নেওয়ার সুযোগ হবে না।’

শব্দগুলো উচ্চারণের সময় কণ্ঠ ভারি হয়ে আসছিল সোহেল রানার। একপর্যায়ে বেশ উচ্চ আওয়াজেই কেঁদে ফেলেন ঢাকাই ছবির একসময়ের দাপুটে এ প্রযোজক ও নায়ক।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আজীবন সম্মাননা পাওয়া শিল্পী ও পুরস্কার পাওয়া শিল্পীদের জন্য দুটি স্বীকৃতির আবেদন করেন। একটি এ আসরে আজীবন সম্মাননা পাওয়া শিল্পীদের ভিআইপি পদমর্যাদা ও পুরস্কার পাওয়াদের অন্তত দুই বছরের জন্য হলেও সিআইপি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। পাশাপাশি সিনেমার বড় তারকাদের বাইরেও সিনেমার ছোট আর্টিস্ট ও সব কলাকুশলীর জন্য একটা আর্থিক ফান্ড গঠনের কথাও বলেন তিনি।


