সন্ধান২৪.কম: গত কাল মাওয়ার কাছাকাছি ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হলো ৪১তম স্প্যান।এর মধ্যদিয়ে ইতিহাস তৈরি করল বাংলাদেশ। বিশ্ব দেখল নিজেদের টাকায় দেশের সবচেয়ে বেশি খরচের অবকাঠামো নির্মাণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। এই সেতু নিমার্ণ করতে কে কি মন্তব্য করেছেন তা দেখে নিন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বাঙালি জাতি বীরের জাতি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখিয়েছেন। বিশ্বের কাছে প্রমাণ হয়েছে আমরা কারও কাছে মাথানত করিনি। -মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় সেতুর পাইলিং কাজের উদ্বোধনকালে, ১২ ডিসেম্বর ২০১৫।
লন্ডনে শেখ হাসিনা : ‘নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হচ্ছে। আমাদের যে উদ্যোগ- তাতে ভাটা পড়েনি।’ বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিলের সিদ্ধান্ত পাল্টে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করলে সেটা তারা ‘নিজেদের বিবেচনায়’ করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদের বিবেচনা। আর এটা ভুল ধারণা, আমরা পিছু হটিনি। আমরা পিছু হটবো না।’ ‘বিশ্ব ব্যাংক আসুক আর না আসুক- আমরা পদ্মা সেতু করব। আমাদের নিজেদের প্রস্তুতি আছে। বিশ্বব্যাংক কী করে- এটা তাদের এখতিয়ার।’ -২৬ জুলাই ২০১২
খালেদা জিয়া : ‘এখন পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিন্তু পদ্মা সেতু এই আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। আর সেই সেতুতে ওঠার জন্য…একটি যদি জোড়াতালি দিয়ে বানায়, সেই সেতুতে কেউ উঠতে যাবেন না। অনেক রিস্ক (ঝুঁকি) আছে।’ -১৬ অক্টোবর, ২০১৮।
২০১৮ সালের জানুয়ারীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, ‘পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। জোড়াতালি দিয়ে তাড়াহুড়ো করে এই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কেউ এই সেতুতে উঠতে যাবে না। কারণ, অনেক ঝুঁকি আছে।’
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের-
‘সেতুর নকশায় কোন পরিবর্তন নেই। পরিবর্তন শুধু অর্থায়নে। আগে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় করার কথা থাকলেও বর্তমানে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে সেতুর কাজ শুরু করব।’ -১০ জানুয়ারি, ২০১৪।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-
‘রাঘববোয়ালদের দুর্নীতি আড়াল করতেই সরকার এখন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা বলছে? বাক্স খুলে পয়সা জমা নিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব নয়।’ -১৭ জুলাই ২০১২।
মির্জা ফখরুল বলেন, “একটা ভ্রান্ত ও ভুল ডিজাইনের উপরে পদ্মাসেতু নির্মিত হলে সেটা যে টিকবে না, সেটা তো উনি (খালেদা জিয়া) ভুল বলেননি। বরং তিনি সাচ্চা দেশপ্রেমিকের কাজ করেছেন। তোমরা এখনও এলার্ট হও, চেঞ্জ দ্য ডিজাইন এবং সেটা সঠিকভাবে নির্মাণ হতে হবে।”
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত-
পদ্মা সেতুর জন্য কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের টাকা আদায়ের কোন সুযোগ নেই? এজন্য দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে? সেই অ্যাকাউন্টে স্বেচ্ছায় টাকা জমা দেয়া যাবে? এখানে কোন জোর জবরদস্তির বিষয় নেই? -৩০ জুন ২০১২।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান-
বিশ্বব্যাংকের সহায়তা লাভে ব্যর্থ হওয়ার পর সরকার বাণিজ্যিক শর্তে ঋণ নিতে চেয়েছিল, তাতেও সফল না হওয়ায় সরকার তৃতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা বলছে। এসব কারণে তার মনে হচ্ছে, সরকার পদ্মা সেতু করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক দিকগুলো যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারাকাত –
২৪০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প নিজস্ব অর্থেই করা সম্ভব। অর্থের উৎস ব্যবহারে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা থাকলে অর্থনীতির ওপর কোন চাপ পড়বে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। -বিবিসি বাংলা, ১৬ জুলাই ২০১২


