পাকিস্তানের সরকার পরিবর্তন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাল চীন

পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ চীনের সঙ্গে তার সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে তা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে শাহবাজ শরীফ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বলেন, চীন ও পাকিস্তানের যে সুদীর্ঘকালের বন্ধুত্ব, তা কেউ আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না।

এদিকে শাহবাজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর চীনের প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। ইসলামাবাদের চীনা দূতাবাস এক টুইটে জানিয়েছে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের অকৃত্রিম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে মুখপাত্রের বরাতে ওই টুইটে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও পরিস্থিতি চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের মৌলিক অবস্থানে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না।

সোমবারই পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শাহবাজ শরীফ। ইসলামাবাদের আইওয়ান-ই-সদরে এক যুগান্তকারী অনুষ্ঠানে তিনি শপথ নেন।

সিনেটের চেয়ারম্যান সাদিক সানজরানি প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির অনুপস্থিতিতেই শাহবাজকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ১৭৪ জন সদস্য শাহবাজ শরীফের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে কেউ ভোট দেননি কেউ।

এই ১৭৪ জন সদস্যই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়।

শাহবাজ শরীফের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের কো চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ কোরেশির। কিন্তু অধিবেশন শুরু হওয়ার পর কোরেশি ঘোষণা দেন পিটিআইয়ের সব সদস্য পদত্যাগ করবেন।

তার এ ঘোষণার পর পিটিআইয়ের সকল সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার কাসেম সুরিও বের হয়ে যান।

এর ফলে পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শাহবাজ শরীফ নির্বাচিত হয়ে যান।

কাসেম সুরি বের হয়ে যাওয়ার পর স্পিকারের দায়িত্ব নেন মুসলিম লিগ-এন এর নেতা আয়াজ সাদিক। তিনি স্পিকারের চেয়ারে বসেই ভোটাভুটির কার্যক্রম শুরু করেন।

তিনি জানান যারা শাহবাজকে প্রধানমন্ত্রী চান তারা ডান দিকে যান। আর যারা কোরেশিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে চান তারা বাঁ দিকে যান।

সূত্র: জিয়ো নিউজ

Exit mobile version