পুলিশকে ধাওয়া করলো সিলেটের বিক্ষুব্ধ জনতা

সন্ধান২৪.কম : সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকায় পুলিশকে ধাওয়া করেছে বিক্ষোব্ধ জনতা। বৃহস্পতিবার বিকেলে রায়হান হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

জনতার বিক্ষুব্ধ রোষে পালিয়ে গেল পুলিশ।   রাস্তা থেকে জনতাকে সরিয়ে দিতে গেলে উল্টো পুলিশকে ধাওয়া করে বিক্ষুব্ধ জনতা। ‘পুলিশি নির্যাতনে’ যুবক রায়হান মৃত্যুর ৫ দিনেও উত্তাল ছিল সিলেট। অভিযোগ উঠেছে সিলেটে বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে মারা যান রায়হান।

বৃহস্পতিবার বিকালে রায়হানের বাসার কাছে নেহারীপাড়ায় সিলেটে-সুনামগঞ্জ সড়কে জনতা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে। পাঠান টুলায় রাস্থা অবরোধ করলে পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দিতে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুলিশকে ধাওয়া করে।

একই সময়ে সুবিদবাজারে ও দুপুরে আম্বরখানা পয়েন্টে ও শহীদ মিনারে, সন্ধ্যায় কোর্ট পয়েন্টে পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তরা অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি করে বলেন, পুলিশ হেফাজতে কারো মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এর আগে দুপুরে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট লোকজন রেজিস্ট্রি মাঠ থেকে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক এম, কাজী এমদাদুল ইসলামের নিকট রায়হান হত্যাকারীদের বিচার ও দোষীদের গ্রেফতার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

নিহতের চাচা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, ভোররাত চারটার দিকে রায়হান একজন পুলিশ সদস্যের ফোন দিয়ে তার মায়ের মোবাইলে কল করে বলে, ‘আমারে বাঁচাও, ১০ হাজার টাকা লইয়া তাড়াতাড়ি ফাঁড়িতে আসেন। ’ এরপর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।

মো. হাবিবুল্লাহর দাবি, কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে পাশের ফাঁড়িতে রায়হানের সন্ধানে গেলে ডিউটিরত কনস্টেবল তাকে জানান- ‘সবাই ঘুমে। সকালে আসেন। এ সময় ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ফাঁড়িতে যেতে বলা হয়।

নিহতের চাচা বলেন, পরে ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ফাঁড়িতে গেলে পুলিশ বলে রায়হান অসুস্থ। ওসমানী মেডিকেলে যান। এরপর মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে এসে দেখেন রায়হানের লাশ। এই ঘটনায় নগরীতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

 

Exit mobile version