সন্ধান২৪.কমঃ পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি ফয়সল হত্যার বিচার দাবিতে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। শিক্ষার্থী সৈয়দ আরিফ ফয়সাল নিহতের ঘটনায় এখনও অব্যাহত রয়েছে বিক্ষোভ।
ফয়সল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবিতে সোমবার (৯ জানুয়ারি) ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের ক্যামব্রিজ সিটি হলের সামনে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন কমিউনিটির শত শত মানুষ।
এদিকে সোমবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে মানবন্ধনের আয়োজন করে সচেতন নাগরিক সমাজ। এছাড়াও নিউইয়র্কেও কয়েকটি সংগঠন প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছ।

সেখানে তারা বলেন,‘সে কাউকে হত্যা করতে গিয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। ফয়সালকে আতœসমার্পন করানোর সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ সেটা করেনি। ফয়সালকে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।’
গত সেমাবার বিকেলে ক্যান্ব্রিজ সিটি হলে সামনে শতশত মানুষের সমাবেশে হয়েছে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউইংল্যান্ড (বেইন)’র ডাকে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে মানবাধিকার নিয়ে বস্টন এলাকায় কর্মরত ৫১টি সংগঠনের সাথে হাজির হন আরিফের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেট্স’র শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও। ছিলো ‘ব্ল্যাক লাইভ ম্যাটার্স’ এবং ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্স’ (কেয়ার), মুসলিম জাস্টিস লীগ, বস্টন সাউথ এশিয়ান কোয়ালিশন’র কর্মকর্তারাও।

এছাড়াও বস্টনের পুটনাম এভিনিউতে অবস্থিত মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র হাই স্কুলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত একটি সভা হয়। সে সময় ফয়সলের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে লোকজনের বক্তব্য/মতামত নেয়া হয়। এরপর ১৮ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত সিটি হলে আরেকটি বিশেষ মিটিং হবে পুলিশী আচরণের বিষয়ে।
গত সেমাবার ক্যান্ব্রিজ সিটি হলের সমাবেশে উপস্থিত থেকে মেয়র সম্বুল সিদ্দিকী বলেছেন, ‘আজ আমি আপনাদের দুঃখবোধ, কষ্ট, হতাশা আর বিভ্রান্তির সাথে সংহতি প্রকাশ করছি। সিটির মেয়র হিসেবে আমাদের অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, যেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। এমন পরিস্থিতির আর অবতারণা হবে না-এমন প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে।’
মেয়রের পাশে এ সময় ছিলেন সিটির পুলিশ কমিশনার ক্রিস্টিন ইলো,মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যারিয়েন রায়ান, ক্যাম্ব্রিজ সিটির ম্যানেজার ঈ-য়েন হুয়াং-সহ পদস্থ কর্মকর্তারা।
উদ্ভুত পরিস্থিতির আলোকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ফয়সল হত্যার তদন্ত করার পর দায়ী অফিসারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানানো হয়। এসময় ক্ষুব্ধ জনতার মধ্য থেকে মেয়রের সাথে কথা বলেন, ইকবাল ইউসুফ, সালাহউদ্দিন চৌধুরী, শাহাবুদ্দিন চৌধুরী, আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ রহমান বাবুল প্রমূখ।
উল্লেখ্য, নিজ বাসার জানালা দিয়ে লাফিয়ে খালি গায়ে ছুরি হাতে নিজেকে জখমের চেষ্টা করেন ফয়সল-এমন ফোন পেয়ে একদল পুলিশ অকুস্থলে হাজির হয় এবং আরিফকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা চালান বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি। পুলিশের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ফয়সল বেশ কয়েক ব্লক দৌড়ে পালানোর চেষ্টাও করেন বলে পুলিশ বলেছে। পুলিশ আরো উল্লেখ করে যে, এক পর্যায়ে ফয়সল পেছনে ফিরে ছুরি উচিয়ে পুলিশের দিকে ধেয়ে আসছিলেন, সে সময়েই পুলিশ গুলি চালায় এবং ফয়সল গুরুতরভাবে আহত হন। রক্তাক্ত ফয়সলকে পুলিশের অ্যাম্বুলেন্সে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়ার পরই কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে গত ৫ জানুয়ারী ফয়সলকে গুলিবর্ষণকারি পুলিশ অফিসারের নাম এখনও গোপন রাখা হয়েছে। ৭ বছরের পুরনো এই অফিসারকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে সিটি মেয়র জানান।
নিহত শিক্ষার্থী সৈয়দ ফয়সাল আরিফের দাফন হয়েছে।এর আগে বস্টনের রক্সবিউরি মসজিদে হয়েছে তার জানাজা। শুক্রবার বাদ জোহর জানাজার পর রক্সবিউরিটির একটি গোরস্থানে ২০ বছর বয়সী বাংলাদেশি এই শিক্ষার্থীকে দাফন করা হয়।


