প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করে তার চেয়ারেই বসে পড়লেন ছাত্র

শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকার তোলপাড় শুরু হয়

সন্ধান২৪,কম ডেস্ক : বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি জানিয়ে আন্দোলনে করে । এ সময় সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সহায়তায় প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ত্যাগ করলে তার চেয়ারে বসে যায় ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ইকরামুল হাসান নামের এক ছাত্র। ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায়।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, টেবিলের উপর থাকা নেমপ্লেট সামনে রেখে প্রধান শিক্ষক কাজী আলমগীর হোসেনের চেয়ারে স্কুল ড্রেস ছাড়া সাদা পোশাকে বসে আছেন ছাত্র ইকরামুল। এ সময় ওই কক্ষে আর কাউকে দেখা যায়নি। এ ছবি প্রথমে নিজের ফেসবুকেই প্রথম আপলোড করে ওই ছাত্র লিখেন, আমাদের সু-সম্মানিত আলমগীর স্যার কোথায়?

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ওই বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসা ছাত্রের ছবি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকার লোকজন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহলে বেশ তোলপাড় শুরু হয়।

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিগার সুলতানা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আমরা বিধিমোতাবেক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসে তারই ছাত্র ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তা অমার্জনীয়। এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। খবর পেয়ে প্রথমে দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা সেনাবাহিনী নিয়ে ওই বিদ্যালয়ে যান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রধান শিক্ষক পদত্যাগ না করেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। পরে তার চেয়ারে বসে যায় দশম শ্রেণির ছাত্র ইকরামুল হাসান।

এ বিষয়ে ছাত্র ইকরামুল হাসান জানায়, ‘প্রধান শিক্ষক অফিস কক্ষ ত্যাগ করার পর আবেগে চেয়ারে বসে ছবি তুলি। এটা আমার ঠিক হয়নি, সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমার ফেসবুক থেকেও ছবিটা ডিলিট করে দিয়েছি। ’

শুক্রবার বিকালে প্রধান শিক্ষক কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ওরা (শিক্ষার্থীরা) হয়তো কারও ইন্ধনে ভুল বুঝে আন্দোলনে নেমেছে। অভিযোগ তদন্তের আগেই পদত্যাগে বাধ্য করা দেশে এখন যেন একটি রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

Exit mobile version