প্রেমে ব্যর্থ হয়ে হুমকি, নিউইয়র্ক পুলিশের চাকরি হারালেন বাংলাদেশি আতিকুল ইসলাম

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বাংলাদেশি আতিকুল ইসলাম

সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : অবশেষে  নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বাংলাদেশি আতিকুল ইসলাম প্রেম কেলেংকারিতে ফেঁসে গেলেন । যার ফলে চাকুরি হারাতে বসেছেন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে। ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার ব্রুকলিন ফেডারেল আদালতে আতিকুল ইসলাম নিজ দোষ স্বীকার করেছেন। দোষী প্রমানিত হলে ৩ বছরের জেল জরিমানা হতে পারে। বর্তমানে আতিক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের চাকুরী থেকে সাসপেন্ডে রয়েছেন।

জানা যায়, প্রেমে প্রত্যাখিত হয়ে আতিক নিজে ইমিগ্রান্ট পুলিশ পরিচয় দিয়ে সুন্দরী এক নারীকে হয়রানী করতে শুরু করেন। ঐ নারীকে তার পরিবারসহ একটি অভিবাসন কেন্দ্রে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সরকারি কৌঁসুলিরা একে প্রেমে ব্যর্থ হওয়ায় “ব্যক্তিগত আক্রোশ” বা প্রতিশোধ নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

৩০ বছর বয়সী আতিকুল ইসলাম ২৯ মার্চ, ২০২৫—এ পাঠানো কিছু টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে নিজের পুলিশি ক্যারিয়ার এবং সম্ভবত নিজের স্বাধীনতাও বিসর্জন দিয়েছেন। ওই মেসেজগুলোতে তিনি প্রথমে ওই নারীকে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইস পুলিশ)—এর কাছে রিপোর্ট করার হুমকি দেন । পরে নিজেকে সংস্থাটির নিউ ইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক হিসেবে দাবি করেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, ওই নারী তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

ফেডারেল কৌঁসুলিরা বুধবার ৩০ সেপ্টেম্র জানান, তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার করে ওই নারীকে লিখেছিলেন, “আইস পুলিশ এসে তোমাকে ও তোমার পরিবারকে নিয়ে যাবে এবং তোমরা সারাজীবন কষ্টে বা দরিদ্র অবস্থায় কাটাবে।”

কৌঁসুলিদের তথ্যমতে, এরপর তিনি অন্য একটি নম্বর থেকে টেক্সট পাঠিয়ে নিজেকে জেমস ডব্লিউ. অ্যান্ডারসন নামের একজন আইস কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করেন। তিনি ওই নারী ও তার পরিবারকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত আইস—এর একটি কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন এবং অন্যথায় “আইনি পদক্ষেপ ও কঠোর ব্যবস্থা” গ্রহণের হুমকি দেন। সহকারী ইউ.এস. অ্যাটর্নি রাসেল নোবল আদালতে নিশ্চিত করেছেন যে, কুইন্সে বসবাসকারী ঐ নারী একজন ইমিগ্র্যান্ট। সামাজিকতার স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে দায়িত্বশীল একটি সুত্র প্রতিবেদককে বলেন, ঐ নারী ও তার পরিবার বাংলাদেশি প্রবাসী।

ইউ.এস. অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা বুধবার বলেন, “আইন মেনে চলা এবং নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের সেবা করার পরিবর্তে, আতিকুল ইসলাম মিথ্যা ও নির্বাসনের (ডিপোর্টেশন) হুমকি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত জীবনের এক নারীর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।” “আমরা আশা করি যে কোনো পদমর্যাদার আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন।

ব্রুকলিনের বাসিন্দা বাংলাদেশি আতিকুল ইসলাম ২০১৮ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে যোগ দেন এবং ২০২৩ সালে সার্জেন্ট পদে উন্নীত হন।

 

Exit mobile version