যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল যদি মামলা আবার সচল করেন এবং তাতে যদি রাশেদ চৌধুরীর আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা সহজ হবে।
প্রতিবেদনে রাশেদ চৌধুরীর আইনজীবীর দেওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই ধরনের উদ্যোগকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। খুনি রাশেদ চৌধুরী সম্পর্কে পলিটিকো জার্নালের প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘তিনি ভেবেছিলেন তাঁর অ্যাসাইলাম আছে। এখন তিনি মৃত্যুদণ্ডাদেশের মুখোমুখি হতে পারেন।’
রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদনে দাবি করেছিলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা খুব কমই ছিল। বিষয়টি তুলে ধরে পলিটিকো লিখেছে, বাংলাদেশ রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত চায়। পলিটিকো বলছে, গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার নীরবে মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি তাঁর পূর্ণ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এম রাশেদ চৌধুরীর আদ্যক্ষর ‘এ-এম-আর-সি’ সংক্রান্ত নথি পাঠাতে ইমিগ্রেশন আপিল বোর্ডকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
১৯৯৬ সালে ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান রাশেদ চৌধুরী। এর কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সেখানে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে আবেদনের ১০ বছর পর তিনি আশ্রয়ের অনুমতি পান। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার মামলায় যুক্তি দেখিয়েছিল, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ায় তিনি আশ্রয় পেতে পারেন না। কিন্তু তখন আদালত তাঁদের যুক্তি খারিজ করে দিয়ে রাশেদ চৌধুরীর পক্ষে রায় দিয়েছিলেন।
পলিটিকো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যে আইন আছে তা রাশেদ চৌধুরী ভেঙেছেন কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আইনজীবীদের বরাত দিয়ে পলিটিকো বলেছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের এ উদ্যোগ গুরুতর অপরাধ করে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া রাশেদ চৌধুরীর মতো অনেকের জন্য বড় বার্তা। এ থেকে নজির সৃষ্টি হচ্ছে যে আশ্রয় পাওয়ার এক দশক পরও মামলা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
