বঙ্গবন্ধুর ৫ খুনিসহ ৬১ অপরাধীকে ফিরিয়ে আনতে রেড নোটিশ

সন্ধান২৪.কম: ইন্টারপোলের মাধ্যমে সারাবিশ্বে রেড নোটিশ জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ খুনিসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা ৬১ ভয়ঙ্কর অপরাধীকে ধরে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে । রেড নোটিশ পেয়ে বিভিন্ন দেশে লুকিয়ে থাকা খুনি-অপরাধীদের সে দেশের পুলিশ গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। এ প্রক্রিয়া জোরালোভাবে শুরু করেছে সরকার।

 ভয়ঙ্কর  এসব অপরাধীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গোপনে অবস্থান করছে। তারাকোন কোন দেশে অবস্থান করছে তার প্রাথমিক অবস্থান জানা থাকলেও তারা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে থাকে। এসব অপরাধীরা বিদেশে বসে দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ইন্টারপোল শাখা থেকে এসব অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য দেশগুলোর ইন্টারপোল শাখায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়াও দেশে পলাতক খুনিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি ছাড়াও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি ও তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন মামলার আসামি রয়েছে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক খুনি এসএইচএমবি নূর চৌধুরী বিদেশে পলাতক রয়েছে। ইন্টারপোলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করে তার সম্ভাব্য অবস্থান কানাডা বলে জানিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে তার জন্য রেড নোটিশ জারি করা হয়। এ রেড নোটিশের মেয়াদ ৫ বছর। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের ইন্টারপোল শাখা নানাভাবে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি লে. কর্নেল এএম রাশেদ চৌধুরীর সম্ভাব্য অবস্থান আমেরিকায়। তার বিরুদ্ধে ২০০৯ ও ২০১৮ সালে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। তার রেড নোটিশের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেলেও তা আগামী ৫ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি পলাতক লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছে। তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও সে পাকিস্তান বা লিবিয়ায় অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হয়।

খুনি লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশিদের অবস্থান শনাক্ত না হলেও তারও সম্ভাব্য অবস্থান লিবিয়া ও জিম্বাবুয়ে বলে জানা গেছে। ২০০৯ ও ২০১৯ সালে ইন্টারপোল থেকে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে।

রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্ভাব্য অবস্থান ভারত বা পাকিস্তান বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে ভারতের পুলিশের ইন্টারপোল শাখায় যোগাযোগ করা হয়েছে। এখনও ইতিবাচক কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে ২০০৯ ও ২০১৮ সালে রেড নোটিশ জারি করা হয়। এ রেড নোটিশের মেয়াদও আগামী ৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখা ও পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের একাধিক কর্মকতা সংবাদকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও গ্রেনেড হামলাসহ যেসব মামলার আসামিরা এখনও বিদেশে পালিয়ে আছে আর দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তাদের আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতায় দেশে ফিরিয়ে আনতে সবধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দফায় দফায় কূটনৈতিক আলোচনা হচ্ছে।

 

Exit mobile version