সন্ধান২৪.কম: প্রবাসের মাটিতেও বাঙালিয়ানা টিকিয়ে রাখতে সারা বছর নানা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। সম্প্রতি এমনই এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল আমেরিকার নিউজার্সীতে ।
এই আয়োজনে নানা অনিয়ম,বিশৃঙ্খলা, শিল্পী ও মিউজিশিয়ানদের প্রেমেন্ট না দেয়া, হোটেল থেকে বের করে দেয়া,ঘন্টার পর ঘন্টা না খেয়ে রাখাসহ অজস্র্ অভিযোগ পাওয়া গেছে আয়োজকদের বিরুদ্ধে। এনএবিসি‘র অব্যস্থাপনা নিয়ে নিউইয়র্কে বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকদের এমন কর্মকান্ডের জন্য কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা ধিক্কার দিতে শুরু করেছেন।

এনএবিসি (NABC) ‘নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স’ দুইদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । কিন্ত হল বুকিং দিতে না পারায় অনুষ্ঠান গিয়ে ঠেকে একদিনে।
পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী (Ajay Chakraborty), গায়িকা জয়তী চক্রবর্তী (Jayati Chakraborty) আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। পেশাদার শিল্পীরা নির্দিষ্ট সময়ে বিদেশের মাটিতে উপস্থিত হন ঠিকই। তবে সেখানে গিয়ে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন, সেই তিক্ততা এখনও রয়েছে শিল্পীদের মনে।
সামাজিক মাধ্যমে গায়ক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় একটি মেইলের স্ক্রীনশন আপলোড করেন। এই মেইলটি সেই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের উদ্দেশে লিখেছেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। তিনি লিখছেন, ‘আমেরিকায় আসার প্রথম দিন থেকেই আমার অপমানিতবোধ হচ্ছে। আমি জানি না কেন ৭১ বছর বয়সে এমন একটি অনুষ্ঠান করতে আমি রাজি হলাম। শ্রী অভীক দাশগুপ্ত, যিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানাতে উতলা হয়ে ৫০ বারেরও বেশি ফোন করেছিলেন, সে এখনও পর্যন্ত আমার সঙ্গে দেখা করেননি। অনুষ্ঠানের সময়ের অব্যবস্থা ছেড়েই দিলাম, আমি এখনও চুক্তিতে উল্লিখিত অর্থও পাইনি। এমনকি ভিসার টাকাও এখনও বকেয়া রয়ে গিয়েছে। অব্যবস্থার জন্য হোটেলের ঘরের বাইরে আমাকে প্রায় দু ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল।’
গায়িকা জয়তী চক্রবর্তী, যিনি সহজে কোনও বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে মুখ খোলেন না, তিনিও বাধ্য হয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন লাইভে এসে। গায়িকা বলেছেন, ‘অভীক দাশগুপ্তর আমন্ত্রণে আমার এই অনুষ্ঠানে আসা, কিন্তু তাঁর কাছ থেকে আমি অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার পেয়েছি। তিনি কোনও শিল্পীকে শিল্পী বলেই মনে করেন না। আমরা শিল্পীরা এতদূর থেকে স্টেজ পাওয়ার জন্য লালায়িত না। প্রত্যেক শিল্পীই ভালো ব্যবহার, সম্মান আশা করি।’
অভিযোগের কড়া সুর তুলে জয়তী বলেন, ‘অগণিত বাদকদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের খাবার দেওয়া হয়নি সঠিক সময়ে। আমরা সেই মুহূর্তে প্রতিবাদ করিনি। তবে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল, যখন আমরা স্টেজে উঠছি। আমাদের সাউন্ড চেক করার সময়টুকু পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বহু শিল্পী এনএবিসির অনুষ্ঠানের পর এখনও তাঁদের বকেয়া অর্থ পায়নি। আমি ভাগ্যবতী আমি অর্থ পেয়েছি। এমনকি গুরুজী অজয় চক্রবর্তীও এখনও অর্থ পাননি। এই কি সভ্যতা? এই কি ভদ্রতা? তাঁর উত্তর এনএবিসিকে দিতে হবে।’
সামাজিক মাধ্যমে শিল্পীদের রাগের বহিঃপ্রকাশ দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন পশ্চীমবঙ্গের শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংবদিকরা । পশ্চীমবঙ্গ বাদেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিরাও প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। তারা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এনএবিসি‘র কড়া সমালোচনা করছেন।
অন্যান্য শিল্পীরাও নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্সের তীব্র সমালোচনা করছেন। বিদেশের মাটিতে বাঙালি শিল্পীদের অপমান, বাংলার অপমান। অবিলম্বে আয়োজকদের কাছ থেকে কৈফিয়ত চাইছেন কলকাতাবাসী। তাঁরা শিল্পীদের কাছে ক্ষমা চান, এই দাবিও উঠছে। (পর্ব তিন আসছে )