সন্ধান২৪.কম : বন্যয় প্লাবিত হয়েছে দেশের ২০টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এ বন্যা আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা । মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে তৃতীয় দফায় বন্যাঢয় দেশের এমন অবস্থা হয়েছে।


ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, আপার মেঘনা এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ ব্যাপক হারে বাড়ছে। এ বন্যা একযোগে শুরু হয়েছে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এবং মধ্যাঞ্চলে। এ ছাড়া ঢাকার নিম্নাঞ্চলও এবার বন্যাকবলিত হতে পারে। ইতোমধ্যে ঢাকার চারপাশের নদ-নদী- বালু, বংশী, তুরাগ ও বুড়িগঙ্গায় বেড়েছে পানিপ্রবাহ। ফলে বেশ কয়েকটি স্থানে বন্যার পানি ঢুকেছে। কমপক্ষে আগামী দু’দিন এসব নদ-নদীতে পানির সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
এ মুহূর্তে যেসব জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে- লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, ফেনী, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা, নওগাঁ, সিলেট ও সুনামগঞ্জ। এছাড়া পাবনা, কিশোরগঞ্জ, ফেনী ও কক্সবাজার বন্যাকবলিত হতে পারে বলে- জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, দেশের এক-তৃতীয়াংশ জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হওয়ায় অন্তত অর্ধকোটি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। যদিও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এনডিআরসিসি) তথ্য অনুযায়ী পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব জেলার ৬ লাখ ২৬ হাজার ১৫২টি পরিবারের ২৮ লাখ ১২ হাজার ৩৮০ জন। আর বন্যাজনিত কারণে মারা গেছেন ২২ জন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকের মধ্যে এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫১৫ টন চাল। বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে নগদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ কোটি ১১ লাখ ৪২ হাজার ২০০ টাকা। শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে ৪৭ হাজার ৬৭২ প্যাকেট। শিশুখাদ্য কেনা বাবদ সাড়ে ২৪ লাখ ও গোখাদ্য কেনার জন্য দেয়া হয়েছে সমপরিমাণ টাকা। এছাড়া ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে ৮০ বান্ডিল।
বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, উপর্যুপরি দুটি বন্যায় উত্তর, পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোর বানভাসি মানুষ এমনিতেই বিপর্যস্ত। এসব বন্যার পানি না নামতেই শুরু হয়েছে তৃতীয় দফার বন্যা। নদ-নদীগুলো পানিতে টইটুম্বর। এখন উজান থেকে যে পানি নেমে আসবে সেটাই বন্যার ভয়াবহতা ও দুর্ভোগ অনেক বাড়িয়ে দেবে। এ বন্যা আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।


