সন্ধান২৪.কমঃ ধূর্ত ও প্রতারক সনাতন বালিগঞ্জের ম্যান্ডেভিল গার্ডেন্সের একটি দশ কোটি টাকার সম্পত্তি হাতাতে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়ে । প্রতারণা করতে বাংলাদেশে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তৈরি করেছিল সনাতন।
পশ্চীববঙ্গের কলকাতার গন্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশেও নিজের প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিল । স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নামে বাংলাদেশ থেকে বিপুল টাকা জালিয়াতি করেছে সনাতন। এই কাজে তাকে সাহায্য করত তারই এক সহযোগী। বিশ্বজিৎ সাঁতরা নামে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশে নাম ভাঁডিয়ে সংগ্রাম মিত্র হিসেবে কাজ করতেন।

সনাতন ও তার শাগরেদরা কলকাতার ধাঁচেই সেই দেশে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা খুলে প্রতারণার পথ করেছিল । উদ্দেশ্য ছিল সমাজের উচ্চশ্রেণির মানুষদের সঙ্গে আলাপ করে মোটা টাকার চাঁদা তোলা। সেই মতো সদস্যপদ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ১,৫০০ টাকা করে নেওয়াও শুরু করেছিল সনাতন ও কোম্পানি। কিন্তু ব্রিটেনে যে সংস্থার নাম ও ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল তার অস্তিত্ব না থাকায় সন্দেহ হয় প্রতারিতদের। তারপরই স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। সোহেল খান নামে এক প্রতারিত ব্যক্তিই থানায় অভিযোগটি করেছিল।
সিবিআই লেখা স্টিকার লাগানো দামী গাড়িতে চড়ে ঘোরা এই ব্যক্তি নিজেকে কখনও সিবিআইয়ের কৌঁসুলি, কখনও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, কখনও আবার কলকাতা হাইকোর্টের স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল বলে পরিচয় দিত। যদিও সনাতন আইনজীবী নয়। বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদের চিরকুট সনাতনের কাছে পাওয়া গেলেও দল তার সঙ্গে যোগ এড়িয়ে গিয়েছে। এ কথা বিজেপির তরফে লিখিত ভাবে জানানো হচ্ছে বলে খবর।
এসব ঘটনার মধ্যে সামনে এসেছে সনাতনের বাংলাদেশ যোগ! সোহেল খান নামে সে দেশের এক নাগরিক বাংলাদেশ পুলিশের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে খবর। অভিযোগে জানা গিয়েছে, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তৈরি করেছিল সনাতন। ওই সংস্থার সদস্যপদ বাবদ এক হাজার টাকা করে তোলা হয়েছিল। অনুদান হিসেবে এসেছিল দু’লক্ষ, পাঁচ লক্ষ টাকা। এই ভাবে সে বিপুল টাকা তুলেছে বলে পুলিশের অনুমান। আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই সংস্থা খোলা হয়েছিল ব্রিটেনের ঠিকানায়! তদন্তে উঠে আসছে বাংলাদেশে সনাতনের ওই সংস্থার হয়ে কাজ করা সংগ্রাম মিত্র বলে এক ব্যক্তির নাম। সে দেশের তদন্তকারীদের অনুমান, আসলে ওই ব্যক্তির নাম বিশ্বজিৎ সাঁতরা। বিশ্বজিৎ নামের এই ব্যক্তি কে, সে নিয়ে তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশও। কলকাতা পুলিশের এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ‘‘সনাতন যে আইনজীবী তা নিয়ে সংশয় নেই। আইনজীবী হওয়ায় আইনের মারপ্যাঁচ সে ভাল করেই জানত। সে-ই পথেই প্রতারণার ফাঁদ বিস্তৃত করেছিল।’’
কুটনীতিক হিসেবে ২০১৮ সালে ব্রিকস, ২০১৩ সালে টোকিওয় উপস্থিতি ঘিরে জল্পনার পর এ বার কি বাংলাদেশ-যোগ? ভুয়ো সিবিআই কৌঁসুলি সনাতন রায়চৌধুরীকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে তার সঙ্গে ততই যেন গভীর হচ্ছে আন্তর্জাতিক যোগ। এর মধ্যে সনাতনের বিপুল আয়ের উৎস সম্পর্কে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সব দিক খতিয়ে দেখতে বেশ কয়েকটি সরকারি দফতরের পাশাপাশি বিজেপিকেও চিঠি দিচ্ছে পুলিশ।


