সন্ধান২৪.কমঃ গত ৩১ অক্টোবর সোমবার উডসাইডের গুলশাস টেরেসে প্রবাসে বাংলাদেশীদেও কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির অভিষেক ও শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান হয়ে গেল।

তিন পর্বের অনুষ্ঠানে প্রথম পর্ব ছিল শপথ গ্রহন,দ্বিতীয় পর্ব আলোচনা এবং শেষ পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখানে নিউইয়র্ক ষ্টেটের আসেম্বেলী সদস্য জেনিফার রাজকুমারের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের সাইটেশন প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আসন সংখ্যার চেয়ে অতিথিদের আগমন ঘটে অনেক বেশী। যার জন্য অনেককে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও অব্যবস্থাপনা নিয়েও উপস্থিত অনেককে হতাশা ও বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরান থেকে তেলওয়াত,দোয়া ও মুনাজাত করেন জামাইকা মুসলিম সেন্টারের খতিব ও পেশ ইমাম মওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। এ ছাড়াও গীতা ও ত্রিপাঠক পাঠ করা হয়। এরপর দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশ করা হয়।
প্রথম পর্বে শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ছাড়াও বক্তব্য দেন শিকাগোর বাংলাদেশের অনারারী কনসাল মনির চৌধুরী,বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম.আজিজ,সংগঠনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ্যাড. জামাল আহমেদ জনি,পুণনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী এবং অভিষেক কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী। এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার। নব-নির্বাচিত সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অনুষ্ঠান এম.আজিজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অভিষেক কমিটির সদস্য সচিব সারোয়ার খান বাবু।
প্রথম পর্বে নব নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেনের কাছে সোসাইটির হিসাব-নিকাশ বুঝে দেন প্রাক্তণ কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী। আর সোসাইটির নব নির্বাচিত সভাপতি আব্দুর রব মিয়ার কাছে সংগঠনের দায়িত্ব বুঝে দেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার।
২য় পর্বে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি আব্দুর রব মিয়া। এই পর্ব সঞ্চালনা করেন পুণনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী। তাকে সহযোগিতা করেন সদস্য সচিব সারোয়ার খান বাবু।
এ পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডেমক্রেট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী,মূলধারার রাজনীতিক মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ ও শাহ নেওয়াজ,বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ ও মুজিবুর রহমান,সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম ও আতাউর রহমান সেলিম।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন শাহ মাহবুব,চন্দ্রা রায় ও অন্যান্যরা । এ পর্ব পরিচালনা করেন বিদায়ী ও নব নির্বাচিত সাংস্কৃতিক সম্পাদক যথাক্রমে মনিকা রায় চৌধুরী ও ডা.শাহনাজ লিপি।
অভিষেক উপলক্ষে বিদায়ী সাহিত্য সম্পাদক নাসির হোসেনের সম্পাদনায় ‘নবজাগরণ’ একটি স্মরণীকা প্রকাশ করা হয়। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন সোসাইটির পুণনির্বাচিত প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ। স্মরণীকাটি উৎসর্গ করা হয়েছে বিদায়ী কমিটি সভাপতি কামাল আহমেদ,সহ-সভাপতি আবুল খায়ের ও কার্যকরী কমিটির সদস্য আজাদ বাকিরের উদ্দেশ্যে।
অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ্যাড. জামাল আহমেদ জনি আয়োজনে অব্যবস্থাপনার দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ অভিষেক অনুষ্ঠান অথচ মঞ্চে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের বসার জায়গা হলো না।
এছাড়া বসার স্থান না পেয়ে অনেককে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে । এ ব্যাপারে একজন অতিথি আক্ষেপ করে বলেন, আজকের আয়োজকরা অপরিকল্পিত ভাবে মানুষদের আমন্ত্রণ করেছে। যার জন্য এই বিশৃঙ্খলার সৃস্টি হয়েছে।
নতুন কমিটির অভিষিক্তরা হলেন, সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দীন দেওয়ান, সহ সভাপতি ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সহ সাধারণ সম্পাদক আমিনুল চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম ভুঁইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ডা. শাহনাজ লিপি, জন সংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ টিপু খান, সাহিত্য সম্পাদক ফয়সল আহমদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য, কার্যকরী সদস্য মোঃ সাদী মিন্টু, ফারহানা চৌধুরী, শাহ মিজান, আবুল বাশার ভূইয়া, আক্তার হোসেন বাবুল ও সুশান্ত দত্ত।