সন্ধান২৪.কমঃ নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নানা বির্তক ও বিভ্রান্তি। নির্বাচনে অবতীর্ণ দুটি পরিষদ, নির্বাচন কমিশন ও কার্যকরী কমিটির ত্রিশঙ্কু অবস্থার মধ্যে পড়ে অর্থনৈতিক ভাবে সোসাইটির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন নিয়ে কোন সুষ্পষ্ট সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সাধারণ ভোটাররা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, বিলম্বে নির্বাচন হলে, আবার কোন মামলার জালে জড়িয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ সোসাইটি।
নানা অজুহাত তুলে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে নয়ন-আলী পরিষদ ইসির অব্যাহতি চেয়েছে। সেই সাথে এই পরিষদ নতুন ইসি গঠনেরও দাবী করেছে। সঠিক সময়ে সোসাইটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত না করার দায় ইসির কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে, চলতি সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবী জানায় নয়ন-আলী পরিষদ।
নয়ন-আলী পরিষদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি রব-রুহুল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, নয়ন-আলী পরিষদের দাবীর সাথে তারা একমত পোষন করেন নাই। সিদ্দিকী বলেন, মামলার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই কাউকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। কেউ আইনের উর্দ্ধে না। তিনি বলেন, নয়ন-আলী পরিষদ ইসির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনছে, মাঠ গরম করে রাখতে সেগুলো বলার জন্য বলছে। সোসাইটির নির্বাচন তার আপন নিয়মেই হবে, এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করে, বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে সোসাইটির ভোটাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে কোন লাভ হবে না।
নয়ন-আলী পরিষদ আপনাদের (ইসির) অব্যহতি চেয়ে, নতুন ইসি গঠনের দাবী করেছে- এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি ?
আজকাল প্রতিনিধির এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশন জামাল আহমেদ জনি প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা ( নয়ন-আলী পরিষদ) সোসাইটির নির্বাচন কমিশনকে বাংলাদেশের নির্বাচনের মত মনে করেছেন। দেশের নির্বাচন কমিশনের মত আমরা কারো অধীনে চাকুরী করি না, সোসাইটিতে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছি,তাই কে কি বললো তা দেখলে হবে না। তিনি বলেন,নির্বাচন কমিশন সংগঠনের গঠনতন্ত্র মেনে নির্বাচন করবে। তা ছাড়াও পরিবেশ-পরিস্থিতিটাও বিবেচনায় আনতে হবে।
সোসাইটির আর্থিক বছর শুরু হয় জানুয়ারী থেকে জানুয়ারী পর্যন্ত। তাই এই সময়ে নির্বাচন দিলে, যে পরিষদ নির্বাচিত হবে, তাদেরকে হয় দুই বছরের চেয়ে কয়েকমাস বেশী অথবা কম সময়ের জন্য দায়িত্ব নিতে হবে। ধরে নেই, আগামী দুই/ একমাসের মধ্যে নির্বাচন হলো এবং আাগামী জানুয়ারীতে তাদেরকে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলো। তার জন্যও তো সংগঠনের কার্যকরী ও ট্রাষ্টি পরিষদকে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় দিতে হবে, পাশাপাশি ইসিকেও নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। জামাল আহমেদ জনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, নির্বাচন গঠনতন্ত্র মেনে যথাসময়ে হবে, এ নিয়ে জল ঘোলা করে কারোকোন লাভ হবে না।
নির্বাচনের দীর্ঘসূত্রিকার সুযোগ নিয়ে জন্য সোসাইটি আবার কোন মামলার খপ্পরে পড়বে না তো ? নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোসাইটির সাধারণ সদস্যদেরও মধ্যে দেখা দিয়েছে এমন প্রশ্ন, উদ্বেগ ও আশঙ্কা।
গত ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত নীরু এস নীরা মামলার কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গত কয়েক দিন আগে নীরার দ্বিতীয়বার করা রিট পিটিশিন খারিজ হয়ে যায়। ফলে সোসাাইটির নির্বাচন করতে আর কোন বাঁধা নেই বলে মনে করছেন নয়ন-আলী পরিষদ। যার জন্য তারা গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে যাক। সোসাইটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করুক।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে রশি টানাটানি
