সন্ধান২৪.কমঃ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে ‘রব-রুহুল’ পুরো প্যানেল নিয়ে বিজয় অর্জন করলো । আর নয়ন-আলী পরিষদের সবাই পরাজয়ের মুখ দেখলো। সভাপতি পদ বিজয়ী হয়েছেন আব্দুর রব মিয়া, তিনি ৩১৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন পেয়েছেন ২৫৪০ ভোট। ‘রব-রুহুল’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদে ৩১৫৯ ভোট পেয়ে আবার বিজয় অর্জন করেছেন। তার নিকটতম পরাজিত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ২৪৭৫ ভোট। সর্বমোট ১৯ পদের প্রতিটি পদে গড়ে ৪ শত ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হলো রব-রুহুল পরিষদ।

১৮ সেপ্টেম্বর রবিবার ৫ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে প্রায় ২৭ হাজার ৫০০ ভোটারের মধ্যে ব্যালট যুদ্ধে অংশ নেয় মাত্র সাড়ে ৫ হাজার ভোটার। শতাংসের হিসেবে ১০০ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ২০ ভাগ ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করেছেন।
দু’বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে বিজয়ী কমিটির অপর কর্মকর্তারা হলেন : সিনিয়র সহসভাপতি মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান পেয়েছেন ৩১৪৭ ভোট ও সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার ২৪২০ ভোট। সহ সভাপতি ফারুক চৌধুরী পেয়েছেন ৩০৫২ ভোট ও সহ সভাপতি মো. রেজাউল করিম সগীর ২৪২০ পেয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চৌধুরী ২৮৭৫ ভোট পেয়েছেন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ দুলাল পেয়েছেন ২৬৫৩ ভোট। কোষাধ্যক্ষ মো. নওশেদ হোসেন ২৯৮২ ও কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ জে খান ডিউক ২৫৫২ ভোট পেয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম ভূঁইয়া আবুল কালাম ভূইয়া ২৯৩৭ ভোট পেয়েছেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব ২৫৫৪ ভোট । ২৯৯০ ভোট পেয়েছেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক ডা. শাহনাজ লিপি ও ২৫৬০ ভোট সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিকা রায়। জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ ৩২৯১ ভোট পেয়েছেন ও জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক শেখ হায়দার আলী পেয়েছেন ২২৩০ ভোট। সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. টিপু খান ২৯৪৩ ভোট ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবুল কাশেম চৌধুরী ২৫৩২ ভোট। সাহিত্য সম্পাদক ফয়সাল আহমদ ৩০২০ ভোট ও সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান জিলানী পেয়েছেন ২৮৯৩ ভোট। ২৯৭৫ ভোট পেয়েছেন ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মাইনুল উদ্দিন মাহবুব ও ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক মো. এইচ রশীদ রানা পেয়েছেন ২৫৫১ ভোট। স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য পেয়েছেন ২৭৫৯ ভোট তার নিকটতম প্রার্থী স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক মো. সামাদ মিয়া জাকের পেয়েছেন ২৬৭২ ভোট। রব-রুহুল পরিষদের বিজয়ী কার্যকরী সদস্য মো. সাদী মিন্টু ২৯১৩, ফারহানা চৌধুরী ৩২১০, শাহ মিজানুর রহমান ২৯৬২, সিরাজদৌল্লাহ হক বাশার ২৯৯৩, মো. আখতার বাবুল ৩১৬২ ও সুশান্ত দত্ত ২৯৪৯ ভোট পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর এই নির্বাচন হবার কথা ছিল। মামলার কারণে তা ঝুলে যায়। এরপর করোনা মহামারির জন্য ঝুলে থাকা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা তারিখ নির্ধারণ করা হয় গত বছরের ১৪ নভেম্বর। সেটিও থমকে গিয়েছিল মামলার কারণেই। এবারও মামলার অবতারণা হয়। কিন্তু সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান এম আজিজ আদালত প্রাঙ্গনে টানা দুদিন অ্যাটর্নিসহ অবস্থান নেয়ায় নিরা নিরু এবং ওসমান চৌধুরীদের দায়ের করা মোট ৫টি মামলা (যেগুলোতে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল) রুখে দেয়া সম্ভব হয়েছে বলে ১৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি রবিবার রাত ৯টা পর্যন্ত মেশিনে ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যগণকে পাশে নিয়ে ফলাফল ঘোষণা করেন। সে সময় প্রার্থী এবং সমর্থকগণের অনেকেই ছিলেন গুলশান টেরেস মিলনায়তনে।
বহুল আলোচিত-সমালোচিত এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ এ হাকিম মিয়া, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, কাওসারুজ্জামান কয়েস, মোহাম্মদ রুহুল সরকার এবং খোকন মোশারফ আন্তরিকভাবে সচেষ্ট ছিলেন বলে ভোটারেরা জানান। কেন্দ্রসমূহ ছিল উডসাইডে গুলশান টেরেস, ব্রুকলীনে পিএস ৭৯, ওজোনপার্কে দেশী সেন্টার, ব্রঙ্কসে গোল্ডেন প্যালেস এবং জ্যামাইকায় ইকরা পার্টি সেন্টারে।