বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে ভোট কম ‘কাষ্ট’ হওয়ার জন্য দায়ী কে ?

সনজীবন কুমার ঃ রোববার বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নাজুক।
কারণ হিসেবে বিশ্লেষকদের ধারণা, মামলার পর মামলা দায়ের, দুই প্যানেলে অযোগ্য প্রার্থী মনোনীত করা, গণহারে ভোটার বানানো, ভোটের ঠিক আগে আবার ভোট হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে নেগিটিভ প্রচারণা, প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্যানেলের প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি-এই ৫ কারণে ভোটারা কেন্দ্রমুখী হয়নি।
প্রায় ২৮ হাজারের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৯০২ জন ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করেছেন। শতাংশের হারে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ভোট দিয়েছে মাত্র ২০ জন।
নির্বাচন নিয়ে আস্থার সংকট,দায় কার ? নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ সোসাইটি না দুই প্যানেলের ? এমনও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে দিন দিন মানুষের মাঝে চরম আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তারা বলছেন,‘পয়সাওয়ালা’অযোগ্য ব্যক্তিদের প্যানেলে অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে। যাদের সংগঠন চালানোর নুন্যতম পূর্ব অভিজ্ঞা নাই। সোসাইটিকে সমৃদ্ধ করার নেই কোন যোগ্যতা। ফলে সোসাইটির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে-মানুষ ভোট বিমুখ হচ্ছে ।
কিছু কিছু ব্যক্তি নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে ভোটার বানাচ্ছেন। কিন্ত ভোটের দুই একদিন আগে জানতে পারেন, তারা ভোটার হয়েছেন। এমনও দুইএকজনকে পাওয়া গেছে, তারা কি ভাবে ভোটার হলেন জানেন না।
ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ৫টি কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের থেকে নারী ভোটারের উপস্থিতি খুবই কম ছিল। সেটিও ভোট কম পরার একটি কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
মামলা মোকদ্দমার ফলে প্রায় চার বছর স্থগিত থাকায় এ নির্বাচনে ভোটারা তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। এমন পরিস্থিতিতে দুপুরের পর অনেক প্রার্থী বাসা-বাড়িতে গিয়েও ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারেনি বলে জানা গেছে। যার ফলে ভোট গ্রহণ শুরুর পর প্রায় ঘণ্টা খানেক কেটে গেলেও ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি কেন্দ্রের এক ভোটার বলেন, ‘প্রথম ইভিএমে ভোট দেওয়া নিয়ে মনে কিছুটা বিভ্রান্তি ছিল। তবে ভোট দিতে গিয়ে সেই বিভ্রান্তি কেটে গেছে।’ কিন্তু তার পরিবারের একজন সদস্য ইভিএম এ ভোট হওয়ার কারণে কেন্দ্রে আসেনি। তার ধারণা ইভিএমএ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে না। হয়তো শিখিয়ে দেওয়ার নাম করে, তার পছন্দের প্রার্থী বাদে অন্য কাউকে ভোট দিয়ে দিতে পারেন।
প্রতিটি কেন্দ্রেই সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি ছিল দূরবীন দিয়ে খোঁজার মত। গুলশান টেরেস ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হাকিম মিয়া সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৭ হাজার ভোটার। এর মধ্যে সকালে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুব কম। কেন্দ্র তাই খালি। তাই আপততঃ কোন চাপ নাই।’
সোসাইটির দুইজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে সোসাই্িটর নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে যে অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজকের অনুষ্ঠিত ভোটে প্রায় একই ধরণের প্রবণতা দেখা গেছে।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রুহুল আমিন নির্বাচনের দিন দুপুরে আজকালের প্রতিনিধিকে বলেন,তার একজন প্রাথী নির্বাচনের ৬/৭ ঘন্টা আগে নাকি তার কাছে জানতে চান,নির্বাচন হবে ?
রুহুল আমিন প্রশ্ন রাখেন, প্রার্থী যদি ভোট নিয়ে সংশয়ে থাকেন তবে ভোটারদের কি অবস্থা বলেন ?
শতকরা মাত্র ২০ ভাগ ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করেছে। আর ৮০ ভাগ মানুষ ভোটের সংগে যুক্ত ছিলেন না। লাখ লাখ ডলার ব্যয়ের এই ‘খেলো’ নির্বাচনের দায় কার ? নির্বাচন কমিশন,বাংলাদেশ সোসাইটির ? না দুই প্যানেলের ? কোটি ডলারের এমন প্রশ্ন এখন কমিউনিটিতে ঘুরপাক খাচ্ছে।

Exit mobile version