সন্ধান২৪.কম: গত ২০ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে, বাংলাদেশ সোসাইটির বিরুদ্ধে মামলাবাজদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম আজিজ।
উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে সোসাইটির কার্যকরী কমিটি ও ট্রাস্টি বোর্ড যৌথ ভাবে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করলেও, এম আজিজ প্রথমে মঞ্চে কার্যকরী কমিটির কাউকে বসতে দেননি। এ ব্যাপারে আজিজের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

পরে সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে সংবাদ সম্মেলনের একেবারে শেষ মুহূর্তে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকীকে মঞ্চে বসতে দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মফিজুর রহমান। এম আজিজ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, কমিশনার আব্দুল হাকিম মিয়া, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, কাওসারুজ্জামান কয়েস ও রুহুল আমিন সরকার, সোসাইটির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রব মিয়া, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন ও জয়নাল আবেদীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সেলিম, সহসাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া এনাম, সাধারণ সম্পদক প্রার্থী ও বর্তমান কোষাধক্ষ মোহাম্মদ আলী, সাবেক সহসভাপতি ফারুক হোসেন মজুমদার, সাবেক সাহিত্য সম্পাদক খান শওকত, বর্তমান প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক নাদির এ আইয়ুব,সাহিত্য সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক নওশেদ হোসেন,কার্যকরী সদস্য ফারহানা চৌধুরী, মইনুল উদ্দিন মাহবুব,সাদী মিন্টু,সারোয়ার খান বাবুসহ বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ সোসাইটির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মামলাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি তুলে ধরে এম আজিজ বলেন,আমরা বিশ্বাস করি প্রবাসী সব বাংলাদেশি মনেপ্রাণে বাংলাদেশ সোসাইটিকে ভালোবাসেন। যারা ভালোবাসেন না তারাই সোসাইটির ক্ষতি করছেন। তিনি মামলাবাজদের কমিউনিটির ‘আর্বজনা’ আখ্যায়িত করে বলেন, সংগঠন চালাতে গেলে ভালো কাজের সাথে কিছু ভুলত্রুটি হয়। ভুল হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তার সম্মানজনক সমাধান সম্ভব। কিন্তু সেখানে মামলা মোকাদ্দমার প্রয়োজন কী ? কিন্ত সমাজের দুই/একজন ‘আর্বজনা’ মামলা করে সোসাইটিকে দ্বিধা-বিভক্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।
কারা এই মামলার পেছনে রয়েছে। কারা পেছন থেকে এর অর্থ জোগাচ্ছে, কুবুদ্ধি দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে, বলেন মফিজুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে আমরা মামলা-মোকদ্দমার শিকার হয়েছি। যার ফলে এই সংগঠন সঙ্কটের মুখোমুখি। আমাদের বিশ্বাস, প্রবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় এই সঙ্কট সহসাই কেটে যাবে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কার্যকরী পরিষদ, ট্রাষ্টি বোর্ড আর আজীবন সদস্য সহ ২৭ হাজারেরও বেশি সাধারণ সদস্য। বিগত ২০১৮ সালে সোসাইটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিলো। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু অনাকাংখিত একটি মামলার কারণে সেই নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে যায়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই নিয়ে দুইবার নির্বাচন পিছালো। সোসাইটির গঠনতন্ত্রে আছে চাইলেই কোন সদস্য মামলা করতে পারবেন না। সোসাইটির বিরুদ্ধে কোন সদস্যের কোন অভিযোগ থাকলে তাহলে তাকে প্রথমে কার্যকরী কমিটির কাছে লিখিত অভিযাগ জানাতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকরী পরিষদ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তা ট্রাষ্ট্রিবোর্ড-এর কাছে অভিযোগ আকারে পুনরায় দাখিল করার সুযোগ রয়েছে। ট্রাষ্ট্রি বোর্ড কোন ব্যবস্থা না নিলে সেক্ষেত্রে মামলায় যেতে পারেন। কিন্ত মামলার বাদী সোসাইটির কার্যকরী পরিষদ ও ট্রাষ্টি বোর্ডেও কাছে কোন অভিযোগ না জানিয়েই মামলার আশ্রয় নেন। যা অপ্রত্যাশিত।
লিখিত বক্তব্যে,গত ১৫ নভেম্বর সোমবার মামলার বাদীর সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কুরুচিকর বক্তব্যের এবং মরহুম সভাপতি কামাল আহমেদসহ মরহুম আব্দুল খালেক খায়ের ও মরহুম আজাদ বাকের-কে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়।বাদীর সংবাদ সম্মেলনে দেয়া অভিযোগুলোর কোন সত্যতা নেই। মামলা নিয়ে আমাদের কোন বক্তব্য নেই। কেননা, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আমরা আইনগতভাবেই মোকাবেলা করতে চাই। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের একদিন আগে মামলার ঘটনাই প্রমান করে এটি বাদী ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশ সোসাইটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্র।
উল্লেখ্য,সম্প্রতি নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমব্রেলা সংগঠন বলে খ্যাত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন মামলার কারণে স্থগিত হয়ে যায়।


