সন্ধান২৪.কম ডেস্ক: হঠাৎই জীবনের চাকা থেমে গেল । ১১ তারিখে বাম ছাত্র-যুবদের নবান্ন অভিযানে আহত বাম যুবকর্মীর মৃত্যু। মৃত মইদুল ইসলাম মিদ্যার বাড়ি বাঁকুড়ার কোতুলপুরে। বাঁকুড়ার কোতুলপুরের বাম যুব কর্মী মইদুল ইসলাম মিদ্যা পেশায় ছিলেন অটো চালক। সোমবার ভোরে মইদুলের মৃত্যুতে নিঃস্ব হয়ে পড়ল তাঁর গোটা পরিবার। কোতুলপুরের শিহর-গোপীনাথপুর অঞ্চলের চোরকলা গ্রামেও নেমে এল শোকের ছায়া। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে রোজগেরে বলতে মইদুলই ছিলেন একমাত্র ভরসা। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের পুরো দায়িত্বই ছিল তাঁর কাঁধে।

নবান্ন অভিযানে পুলিশের লাঠিতে জখম হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলে দাবি বাম শীর্ষ নেতৃত্বের। বাম নেতা ফুয়াদ হালিমের অভিযোগ, মৃত বাম যুব কর্মীর দেহের পেটে, পিঠে লাঠির আঘাতের চিহ্ন ছিল। লাঠির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিডনি, জল জমে ফুসফুসেও এবং প্রসাবের সঙ্গেও হচ্ছিল রক্তপাত। কিডনি অকেজো হয়েই সকালে ক্যামাক স্ট্রিটের বেসরকারি নার্সিংহোমে ঘটে এই মর্মান্তিক মৃত্যু।
মৃত্যুকালে মইদুল রেখে গেলেন মা তাহমিনা বিবি, স্ত্রী আলেয়া বিবি এবং তিন কন্যাসন্তানকে। এখন কিভাবে চলবে সংসার সেই আশঙ্কার দোলাচলে এখন গোটা পরিবার। স্থানীয় ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বের দাবি, গোপীনাথপুরে সংগঠনের ইউনিট সম্পাদক হিসেবে মইদুল বেশ দক্ষতার সঙ্গে সংগঠনের কাজ করতেন। তাঁর পরিবারের পাশে সবসময় থাকবেন স্থানীয় বাম নেতৃত্ব। বাম শীর্ষ নেতৃত্বও মইদুলের পরিবারের পাশে সবসময় থাকার পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যের আশ্বাসও দিয়ে রেখেছেন।
‘খেলা হবে’। বলেছিল বাম ছাত্র যুব সংগঠনগুল। নিশ্চিত ভাবেই তাদের এই স্লোগানের লক্ষ্য ছিল তৃণমূল সরকার। কিন্তু সোমবার সকালে এক যুবকের মৃত্যু গোটা প্রেক্ষিতটাই বদলে গেল। দিনভর রাজ্য রাজনীতি উত্তাল রইল বামকর্মী মইদুল মিদ্দার মৃত্যু ঘিরে। আগামীকাল বামেদের প্রতিবাদ হবে রাজধানীর বঙ্গভবনে।