সন্ধান২৪.কমঃ ১ এপ্রিল বস্পতিবার ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় বিচার না পাওয়ায় পাঁচ বছরের মেয়ে ও আট বছরের ছেলেকে হত্যা করে নিজে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এক মা। বিকেল তিনটার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার পূর্ব লাঙ্গলঝাড়া গ্রাম থেকে পুলিশ মাসহ বাচ্চাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

মৃতরা হলেন পূর্ব লাঙ্গলঝাড়া গ্রামের শিমুল সরদারের স্ত্রী মাহফুজা খাতুন (৩০), তার আট বছরের ছেলে লাঙ্গলঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র মাহাফুজুর রহমান ও পাঁচ বছরের মেয়ে মোহনা খাতুন।
পূর্ব লাঙ্গলঝাড়া গ্রামের আবদার সরদারের ছেলে ইয়াকুব আলী সরদার বলেন, তার ভাই শিমুল সরদার ট্রাক্টর চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। দু’মাস আগে ভাই শিমুল সরদার বাগেরহাটে ট্রাক্টর নিয়ে কাজ করতে যায়। গত সোমবার শবেবরাতের দিন সকাল ১১টার দিকে ভাইঝি মোহনাকে বাড়ির পাশে ডেকে নিয়ে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে প্রতিবেশী মাদক ব্যবসায়ী লাল্টু গাজীর ছেলে বখাটে হৃদয় হোসেন (১৪)। বিষয়টি তৎিক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে ভাই শিমুলকে জানিয়ে দ্রুত বাড়িতে আসতে বলেন। কাজের ব্যস্ততার কারণে ভাইয়ের আসতে কয়েকদিন দেরি হবে বলে ভাবিকে জানান। এরপর বাবা (শ্বশুর) আবদার সরদারকে জানালে তিনিও মামলার খরচের ভয়ে থানা পুলিশ না করার পরামর্শ দেন। এরপর প্রতিকার চেয়ে ভাবি মাহফুজা সোমবার বিকেলে লাঙ্গলঝাড়া ইউপি সদস্য সাফিজুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন। সামনে ভোট তাই তার কিছু করার নেই বলে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়ে দেয় সাফিজুল।
গত মঙ্গলবার সকালে চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শাহীদা খাতুনের কাছে পাঠিয়ে দেন মাহফুজাকে। সে অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যার পর শাহীদা খাতুন বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বৃহষ্পতিবার থানায় মামলা করতে পরামর্শ দেন। থানায় মামলার কথা জানতে পেরে ভাবিকে হুমকি দেন ধর্ষণ চেষ্টাকারীর বাবা লাল্টু গাজী। বুধবার রাতেই হুমকির বিষয়টি ভাই শিমুলকে মোবাইলে অবহিত করেন ভাবি। ইয়াকুব আলী আরও জানান, সকালে ভাই শিমুল সরদার বাগেরহাট থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৮টার দিকে ভাবি মাহফুজা পার্শ্ববর্তী লাঙ্গলঝাড়া বাজার থেকে নাস্তা কিনে এনে দুই সন্তানকে খাওয়ান। সকাল ১০টার দিকে ভাবির মা মনোয়ারা খাতুন ঘরের মধ্যে আড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়ে মাহফুজার লাশ, মেঝেতে নাতি লাঙ্গলঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র মাহফুজুর রহমান ও দরজার মুখের কাছে নাতনি মোহনার লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তিনিসহ স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। বিকেল তিনটার দিকে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, কলারোয়া থানার ওসি মীর খায়রুল কবীর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের চৌধুরী ঘটনাস্থলে আসার পর তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য শাফিজুল ইসলাম জানান, সামনে নির্বাচন। তাছাড়া ধর্ষণচেষ্টার মতো একটি বিষয়ে সালিস করতে চাননি। তিনি পুলিশকে অবহিত করতে বলেন।