সন্ধান২৪.কমঃ প্রথমে পামেলার গ্রেফতারি। তারপরেই রাকেশ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি শিবিরে চাপ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। তারই মধ্যে এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন নেত্রী রুপা গাঙ্গুলী। তবে কি এবার বিজেপি শিবিরে অন্তর্দ্বন্দ্ব?
কোকেন-কাণ্ডে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন বিজেপির যুবনেত্রী পামেলা গোস্বামী। তাঁর থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছেবিজেপিরআর এক নেতা রাকেশ সিংকেও। রাকেশ সিং ইস্যুতে প্রবল ভাবে বিজেপির ঘরে-বাইরে চাপ বাড়ছে । বিধানসভা ভোটের মুখে যা গেরুয়া শিবিরের স্নায়ুচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতৃত্ব এতটাই বেসামাল যে, রাকেশ-পামেলার পাশে দাঁড়ানো উচিত, না বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত, তা নিয়েও মতপাথর্ক্য তৈরি হয়েছে। তৃণমূল চাপ বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে রাকেশের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় বিড়ম্বনা বেড়েছে।

রূপা বৃহস্পতিবার কোনও রাখঢাক না-করেই বলেন, ‘যে অন্যায় করবে, জেলে যাবে। একদম ঠিক হয়েছে। আমি একটা জিনিসই বুঝি, অন্যায় করলে জেলে যেতে হবে।’ রাকেশের গ্রেপ্তারির পর রাজ্য বিজেপিরতরফে গোটা বিষয়টিকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। এদিন রূপা প্রতিহিংসার তত্ত্বেও সায় দেননি। রাকেশের গ্রেপ্তারি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিবিআই হানার পাল্টা কি না, তার জবাবে রূপা বলেন, ‘পাল্টা-ফাল্টা বুঝি না। সিপিএম, তৃণমূলবিজেপি বুঝি না। যে অন্যায় করবে, তাকেই জেলে যেতে হবে।’
রূপার কড়া প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট, আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপি রাকেশ সিং-এর গ্রেপ্তারিকে প্রতিহিংসা হিসেবে ব্যক্ত করলেও দলের অন্দরেও একটি শিবির মনে করছে অবিলম্বে রাকেশ-পামেলার ‘পাপের’ দায় থেকে BJPর দূরে সরে যাওয়া উচিত। না হলে, বিধানসভা ভোটে বড়সড় খেসারত দিতে হতে পারে। বিজেপির অন্দরের খবর, দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও বিশেষ পছন্দ করেন না রাকেশকে। সূত্রের খবর, তাঁকে দলে নেওয়ার সময় নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন দিলীপ। কিন্তু দলীয় অবস্থানের বাইরে না-বেরিয়ে রাকেশ গ্রেপ্তার হওয়ার পরে তিনি বিষয়টিকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বলে দাবি করেছিলেন। রূপার ভিন্নসুরের পর দিলীপও এদিন বলেন, ‘আইনের বিরুদ্ধে কাজ করলে তাঁকে তো আইনই সাজা দেবে। এতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর দুটো বাচ্চা ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। ওদের কী দোষ! তাই মনে হচ্ছে কোনও গন্ডগোল আছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি এই কারণে বলছি, ওঁকে দিয়ে একাধিক নাম জোর করে বলানো হচ্ছে। এ সব দেখে সন্দেহ তো হবেই।’ রাজ্য BJP-র এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘খোলাখুলি রাকেশের পাশে দাঁড়ানো মুশকিল। বোঝাই যাচ্ছে পরবর্তীকালে রাকেশের আরও অনেক কীর্তি সামনে আসবে। তাতে বিজেপিরই মুখ পুড়বে ভোটের আগে। সে ক্ষেত্রে চুপচাপ থাকাই ভালো।’