ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটা ভালো-খারাপের মিশেল। টানা হতাশা আর ব্যর্থতার পর জ্বলে ওঠা। অবশ্য কথায় আছে, শেষ ভালো যার সব ভালো তার। বাংলাদেশ দলের অবস্থাটাও হয়েছে তেমনই।
সফরের শুরুতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে জয় তো দূরে থাক, দাঁড়াতেই পারেনি তামি-সাকিবরা। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও একই হাল। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও পরের দুই ম্যাচে হেরে যায় টাইগাররা।
তবে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হতেই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে একটি ম্যাচও হারেনি তামিম-মিরাজরা। ক্যারিবীয়দের তৃতীয়বার হোয়াইটওয়াশ করার স্মৃতি নিয়ে দলের একাংশ দেশে ফিরেছে হাসিমুখ নিয়ে।
সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন দলের দুই সদস্য তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজসহ দলের চারজন স্টাফ। দেশে ফিরে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও ওয়ানডে সিরিজের জয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এমনটাই জানিয়েছেন মিরাজ।
আগামী বছর ২০২৩ সালে ভারতের মাটিতে বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর। সাব-কন্টিনেন্টের সুবিধা কাজে লাগিয়ে অনেক দূর যেতেই পারে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে যেমনটা ধারাবাহিক বাংলাদেশ, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ভালো কিছু করবে বলে বিশ্বাস করেন মিরাজ।
‘২০২৩ বিশ্বকাপ তো বেশি দূরে নেই, হয়তো এক বছর দুই-তিন মাস আছে। আমরা যেভাবে যাচ্ছি, আমাদের ওয়েটা যেভাবে আছে, আমি মনে করি এই প্রসেসে এগোলে সামনের বিশ্বকাপটা আরও বেশি ভালো হবে।’
দলে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছেন, তরুণরাও নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন, হয়ে উঠেছেন অভিজ্ঞ। মিরাজের প্রত্যাশা সবার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বকাপে নামবে বাংলাদেশ।
‘দলে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও থাকবে। তামিম ভাই আছেন, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ ভাইয়েরা আছেন। তারা তো অনেক অভিজ্ঞ। তার পাশাপাশি মোস্তাফিজ একটা বিশ্বকাপ খেলেছে, তাসকিন খেলেছে, আমি খেলেছি লিটন খেলেছে। আমরা যারা আছি অলমোস্ট পাঁচ বছর ক্যারিয়ার হয়ে যাবে। মোটামুটি একটা ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা বিশ্বকাপে যেতে পারব।’
নিজেদের লক্ষ্য আর স্বপ্ন নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘চেষ্টা করব দারুণ কিছু করার। এটা নিজেদের জন্য যেমন ভালো, দেশের জন্যও অর্জন। তবে জ্যা, আপনি বলতে পারেন না যে, বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নই হব। আমরা চেষ্টা করতে পারি, কীভাবে ভালো খেলে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ওয়েটা বের করতে পারি। কিন্তু এটা তো ভাগ্যের ওপরে। ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করব। আমরা তো সবসময়ই স্বপ্ন দেখি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হব, এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হব। স্বপ্ন দেখা কখনোই শেষ হয়ে যাবে না।’


